চলতি বছরেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হবে: অর্থমন্ত্রী

সহযাত্রী নিউজ ডেস্কঃ
| ফটো কার্ড
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল চলতি বছরের মধ্যেই বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে নতুন বেতন কাঠামোর বিভিন্ন দিক নিয়ে পর্যালোচনা ও সমন্বয়ের কাজ এখনও চলছে বলে জানান তিনি।

সোমবার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন-২০২৫-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।

নবম পে-স্কেল চলতি বছরের মধ্যে কার্যকর হবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু বলেন, চলতি বছরের মধ্যেই হবে, অবশ্যই হবে।

তিনি জানান, শুধু জাতীয় পে-কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। এর সঙ্গে জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন কাঠামোসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। সবকিছু পর্যালোচনা ও সমন্বয়ের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

১ জুলাই থেকে বাস্তবায়নের ঘোষণা

এর আগে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণায় অর্থমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রায় ১১ বছর ধরে একই বেতন কাঠামোর মধ্যে থাকা সরকারি কর্মচারীদের মূল্যস্ফীতিজনিত চাপ বিবেচনায় নিয়ে নতুন কাঠামো প্রণয়নের কথা বাজেট বক্তব্যে তুলে ধরা হয়।

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ধরন নিয়ে এর আগে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নিম্ন গ্রেডের কর্মীদের তুলনামূলক বেশি সুবিধা দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। একটি পরিকল্পনায় প্রথম ধাপে গ্রেড ১০ থেকে ২০-এর কর্মীদের তুলনামূলক বেশি হারে বেতন বাড়ানোর কথা বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তখনও হয়নি।

বাড়বে সরকারি ব্যয়

জাতীয় পে-কমিশন-২০২৫ সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছিল। পুরো সুপারিশ বাস্তবায়নে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে।

বর্তমানে সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের বেতন-ভাতা বাবদ সরকারের বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়। ফলে নতুন কাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, বাজেটের ওপর চাপ এবং মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।

জুডিশিয়াল পে-কমিশনের সুপারিশও পর্যালোচনায়

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় জাতীয় পে-কমিশনের পাশাপাশি বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনীর বেতনসংক্রান্ত কমিটির সুপারিশও বিবেচনা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন-২০২৫ তাদের প্রতিবেদন ৫ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেয়। প্রতিবেদনে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সুপারিশ করা হয়েছে।

এই তিনটি পৃথক প্রতিবেদন সমন্বয় করে সরকারের কাছে চূড়ান্ত সুপারিশ দেওয়ার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। কমিটির কাজের ভিত্তিতেই পরবর্তী বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

‘সাধারণ মানুষের ওপর একটু চাপ বাড়বে’

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপ বাড়বে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী সংক্ষেপে বলেন, ‘একটু একটু।’

অর্থাৎ নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারি ব্যয় বাড়লেও তা কীভাবে সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলবে, সেটিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে নতুন পে-স্কেলের দাবি জানিয়ে আসছেন সরকারি কর্মচারীরা। এখন জাতীয় ও জুডিশিয়াল পে-কমিশনের সুপারিশ, সংশ্লিষ্ট কমিটির পর্যালোচনা এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত কাঠামো নির্ধারণের অপেক্ষা রয়েছে। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামোর বাস্তবায়ন চলতি বছর থেকেই শুরু হওয়ার কথা।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত