শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পরও বিলম্ব মার্জনা মিলবে না: প্রসিকিউটর

সহযাত্রী নিউজ ডেস্কঃ
| ফটো কার্ড
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাজার বিলম্ব মার্জনার কোনো সুযোগ পাবেন না বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।

রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল চত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রসিকিউটর বলেন, কোনো পলাতক আসামি দেশে ফিরে এসে যদি দাবি করেন যে তিনি নিজের বিরুদ্ধে চলা বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতেন না এবং দীর্ঘ বিলম্বের পর আদালতে হাজির হওয়ায় তাঁকে মার্জনা করা হোক—শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে এমন যুক্তি গ্রহণযোগ্য হবে না।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য আসামিরা মামলার বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত। তাঁরা বিভিন্ন সময় এ বিষয়ে প্রকাশ্যেও বক্তব্য দিয়েছেন। ফলে দেশে ফিরে বিচার সম্পর্কে জানতেন না—এমন দাবি করার সুযোগ তাঁদের নেই।

গাজী এমএইচ তামিম বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাওয়া যায় এবং এরপর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়। প্রায় এক বছর ধরে বিচারপ্রক্রিয়া চলছে এবং তাঁর মতে, বিচার যথানিয়মেই এগোচ্ছে।

বাংলাদেশ-ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বা দণ্ডাদেশের পরোয়ানা থাকলে চুক্তির আওতায় ভারত আইনগতভাবে তাঁকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে পারে।

শাপলা চত্বরের মামলার শুনানি ৩ সেপ্টেম্বর

এদিকে ১৩ বছর আগে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত গণহত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী শুনানির জন্য ৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

প্রসিকিউশনের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ রোববার এ দিন ধার্য করেন।

এদিন কারাগার থেকে ৯ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ও ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান, লেখক-সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, একাত্তর টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু এবং সাবেক চিফ রিপোর্টার ফারজানা রুপা।

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত