রাঙামাটির কাপ্তাই লেকের প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ করে সেখানে থাকা অবৈধ দখলদারদের তালিকা চার মাসের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
রোববার জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালত জেলা প্রশাসক ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে লেকের প্রকৃত ম্যাপ অনুযায়ী সীমানা জরিপ করে অবৈধ দখলদারদের তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
একই সঙ্গে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের লক্ষ্যে কাপ্তাই লেকের প্রকৃত সীমানা নির্ধারণে জরিপ অধিদপ্তরকে কেন প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করা হয়েছে। প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আদালত ৬ জানুয়ারি পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন।
লেক দখল ও দূষণের অভিযোগ
আদালতে পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তাঁকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী সঞ্জয় মন্ডল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী।
শুনানিতে মনজিল মোরসেদ বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কাপ্তাই লেক সৃষ্টি করা হয়েছিল। বর্তমানে লেকের বিভিন্ন অংশ অবৈধভাবে দখল করে বসতি ও স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে লেকটি দূষণেরও শিকার হচ্ছে।
এতে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে আদালতকে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, কাপ্তাই লেকের দখল ও দূষণ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে অনেক অবৈধ দখলদার বর্তমানে নিজেদের জমির মালিকানা দাবি করছেন।
এ অবস্থায় লেকের প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ করে মানচিত্র অনুযায়ী জরিপের মাধ্যমে অবৈধ দখলদারদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন বলে আদালতে তুলে ধরেন তিনি।
২০২২ সালেও উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট
মামলার নথি অনুযায়ী, কাপ্তাই লেক দখল ও দূষণ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে এইচআরপিবি।
ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হলে লেকের প্রকৃত সীমানা নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরিপ অধিদপ্তরের মাধ্যমে কাপ্তাই লেকের সীমানা নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তার কথা জানানো হয়।
এরপর এইচআরপিবি সম্পূরক আবেদন করলে আদালত লেকের প্রকৃত সীমানা জরিপ এবং অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরির এই নির্দেশ দেন।