র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে নতুন একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে বিল উত্থাপন করা হয়েছে। তবে নতুন এই এলিট ফোর্স গঠনের আগে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা ও আরও চিন্তাভাবনার দাবি জানিয়েছে বিরোধী দল।
বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল’ সংসদে উত্থাপন করেন। বিলটি উত্থাপনের সময় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম আপত্তি জানান। পরে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানও নতুন বাহিনী গঠনের বিষয়ে সতর্কতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান। শেষ পর্যন্ত বিলটি সংসদে উত্থাপিত হলে তা পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও আয়নাঘরসহ বিভিন্ন ঘটনায় র্যাব জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত হয়েছে। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল র্যাব বিলুপ্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু র্যাবের পরিবর্তে একই ধরনের নতুন একটি প্রতিষ্ঠান গঠন করা হলে সেটি মূল সমস্যার সমাধান করবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, র্যাবের নামে কোনো সংগঠন আর থাকবে না—এটাই ছিল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। সেই অনুযায়ী র্যাব বিলুপ্ত করা হচ্ছে। তবে পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিট প্রয়োজন হওয়ায় এসআরবি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের কর্মকাণ্ডের কারণে পুরো পুলিশ বাহিনী বিলুপ্ত করা যায় না।
প্রস্তাবিত বিলে র্যাবের জনবল, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, তহবিল, সম্পদ, দায়, চুক্তি, রেকর্ড ও অন্যান্য সুবিধা এসআরবির কাছে হস্তান্তরের বিধান রাখা হয়েছে। পুলিশের অধীনে গঠিত এই ইউনিটে প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ, শৃঙ্খলা বাহিনী এবং নির্ধারিতসংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী পদায়ন বা প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া হবে। ইউনিটটির মহাপরিচালক হিসেবে পুলিশের একজন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস অর্ডিন্যান্স রহিত করে নতুন আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে এপিবিএনকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা দেওয়ার পাশাপাশি প্রবেশ, তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতারও বিধান রাখা হয়েছে।
বিলে এপিবিএনের বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিটের পাশাপাশি সদস্যদের শৃঙ্খলা ও আচরণবিধিও নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুমতি ছাড়া কোনো সদস্যের গণমাধ্যম বা সংবাদপত্রে তথ্য বা দলিল প্রকাশের ওপরও সীমাবদ্ধতা আরোপের প্রস্তাব রয়েছে।
এদিকে ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের বিতর্কিত ১৮(ক) ধারা বাতিলের জন্যও সংসদে একটি সংশোধনী বিল উত্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ব্যাপক সমালোচনার পর সরকার ধারাটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। বিলটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।
সংসদে বিল উত্থাপন ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময়সীমা নিয়েও বিতর্ক হয়। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর বিল দ্রুত সংসদে পাঠানো প্রয়োজন, যাতে সংসদ সদস্যরা পর্যাপ্ত সময় নিয়ে তা পর্যালোচনা করতে পারেন। বিল সরবরাহে বিলম্ব হওয়ায় তিনি মর্মাহত বলেও জানান।
সব মিলিয়ে র্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠন, এপিবিএনের নতুন আইন এবং ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের সংশোধন—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আইন নিয়ে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক হয়েছে।