রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়ানোর উদ্যোগ ঢাকার

সহযাত্রী নিউজ ডেস্কঃ
| ফটো কার্ড
 ছবি: BSS
ছবি: BSS

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশটির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ। চীনসহ বিভিন্ন দেশের সহযোগিতায় এই চাপ আরও জোরদার করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি জানান, মিয়ানমারের সাম্প্রতিক বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা নিয়ে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বাংলাদেশ একমত নয়। এ বিষয়ে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি বিষয়টি তার সরকারের কাছে তুলে ধরার আশ্বাস দিয়েছেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করলেও তা ধীরগতিতে এগোচ্ছে। বাংলাদেশ এই প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার আহ্বান জানিয়েছে। রোহিঙ্গাদের নিজস্ব পরিচয় রয়েছে এবং সেই পরিচয় নিয়েই তাদের নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশে নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে হবে। মানবিক কারণে বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দিয়েছে এবং নিরাপদ প্রত্যাবাসনই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক চাপের প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গরের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী চীন সফরের সময় চীনের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। চীন মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগের বিষয়ে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছে।

তিনি বলেন, সব কূটনৈতিক আলোচনা প্রকাশ্যে না এলেও মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির ওপর আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োজন—বাংলাদেশ এ অবস্থান সবসময়ই তুলে ধরছে। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা আগমন শুরু হলেও দীর্ঘ সময়েও সংকটের সমাধান হয়নি। এর মধ্যে মিয়ানমারের পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, শুধু কূটনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বিষয়টিকে কার্যকর পদক্ষেপে রূপ দিতে হবে। আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে রোহিঙ্গা ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে। আন্তর্জাতিক আদালতের রায়সহ বিভিন্ন বিষয় কাজে লাগিয়ে মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে সরকারের কৌশল পরিবর্তন হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, কৌশলগত পরিবর্তন অবশ্যই এসেছে। এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা মিয়ানমারের ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি করে। তবে আগের উদ্যোগগুলোও একই সঙ্গে চালু রয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশে আল-কায়েদার সেল গঠনের চেষ্টা নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে এখনো নির্দিষ্ট কোনো তথ্য বা উপাত্ত নেই। বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ নিয়ে কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর এবং মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে ভারতের কোনো অনুরোধ এসেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো নতুন তথ্য নেই। প্রধানমন্ত্রীর সফর চূড়ান্ত হলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হবে।

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত