কলকাতার হোটেলে আগুনে নিহত ৯, বাংলাদেশি একই পরিবারের ৪ জন

সহযাত্রী নিউজ ডেস্কঃ
| ফটো কার্ড
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ জনের মধ্যে একই পরিবারের চার বাংলাদেশি রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ছয়জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশিস দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শিম্মিন, আড়াই বছরের শিশু শর্ণশিষ দত্ত এবং শ্বশুর আকরাম আলী রয়েছেন।

দেবাশিস দত্ত একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাড়ি কুষ্টিয়া শহরের মোহিনী মিল এলাকার আরুয়াপাড়ায়। তাঁর স্ত্রী আফসানা শিম্মিনের বয়স ২৭ বছর এবং শ্বশুর আকরাম আলীর বয়স ৬৪ বছর। নিহত শিশুটির বয়স ছিল মাত্র আড়াই বছর।

মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে কলকাতার নিউ মার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইনে আগুন লাগে। ওই সময় হোটেলে ২৫ জন বাংলাদেশি অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে। কলকাতায় বাংলাদেশ দূতাবাস এখন পর্যন্ত আট বাংলাদেশির মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, নিহতদের অনেকে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাত ২টা ৭ মিনিটে হোটেলের তৃতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যে আগুন অন্তত চারটি কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে। হোটেলের ভেতর ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় সেখানে অবস্থানকারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেকেই বের হওয়ার চেষ্টা করলেও ধোঁয়ার কারণে কক্ষ থেকে বের হতে পারেননি এবং কয়েকজন অচেতন হয়ে পড়েন।

খবর পেয়ে চারটি ফায়ার সার্ভিসের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলা দলের সদস্যরাও কাজে যোগ দেন। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। উদ্ধারকারীরা ভবনটি থেকে প্রায় ৬০ জনকে জীবিত বের করে আনেন।

দমকলকর্মীরা হোটেলের ভেতর থেকে অচেতন অবস্থায় নয়জনকে উদ্ধার করে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তাঁদের সবাইকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। আহত কয়েকজনকেও চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত ছয়জন কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রাথমিক তদন্তে হোটেলটিতে পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকার বিষয়টি সামনে এসেছে। আগুনের সূত্রপাতের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে একটি এয়ার কন্ডিশনার বিস্ফোরণের বিষয়টিও তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি।

এ ঘটনায় কলকাতা পুলিশ মামলা করেছে। হোটেলের মালিক ও কর্মীরা ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাঁদের সন্ধানে অভিযান চালানোর পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তদন্ত চলছে।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত