পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া ও নদীয়া জেলায় পরপর কয়েকটি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর মধ্যে বাঁকুড়ায় এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা এবং নদীয়ায় কংগ্রেস নেতা ও তাঁর ছেলেকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতদের সবাই মুসলিম হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
বাঁকুড়ার ইন্দাসের কারিশুন্ডা গ্রামে সিজেপির কর্মী আবদুল হাফিজের বাবা মোহাম্মদ মাফিককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, বাড়িতেই তাঁকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছিল। তবে পুলিশ ইতোমধ্যে এ ঘটনায় আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানিয়েছে।
ঘটনার পর সিজেপির শীর্ষ নেতা আশুতোষ রাঙ্কা বাঁকুড়ায় গিয়ে নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে পুরো ঘটনার আদালতের তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নিহতের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
রাঙ্কা রাজ্য সরকারকে ১০ দিনের সময়সীমা দিয়ে বলেন, এই সময়ের মধ্যে সব অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় জেলা প্রশাসনিক ভবন ঘেরাওসহ বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তিনি। নিহতের ছেলে আবদুল হাফিজ তাঁর বাবার স্মরণে একটি আন্তর্জাতিক মানের স্কুল প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন। সিজেপির পক্ষ থেকেও এই উদ্যোগে সহযোগিতার কথা জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে নদীয়া জেলায় শনিবার রাতে কংগ্রেস নেতা আনিসুর রহমান ও তাঁর ছেলে আবু সুফিয়ানকে গুলি করে হত্যার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বাড়ি ফেরার পথে একটি রেলওয়ে আন্ডারপাসের কাছে তাঁদের গাড়ি আটকে প্রথমে গুলি চালানো হয়। পরে তাঁদের গাড়ি থেকে বের করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়।
এই ঘটনায় স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ফাতেমা বিবিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালত তাঁদের নয় দিনের পুলিশি রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করছে। তবে হত্যার প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এদিকে পরপর এসব হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবেশও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের অবস্থান থেকে ঘটনাগুলোর বিচার দাবি করছে। একই সময়ে রাজ্যের সাবেক ডেপুটি স্পিকার আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আত্মহত্যার ঘটনাও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পরপর মৃত্যুর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও প্রতিটি ঘটনার প্রকৃত কারণ, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং দায়ীদের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। বর্তমানে বাঁকুড়া ও নদীয়ার পৃথক হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করছে পুলিশ।