রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর যা জানালেন স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
| ফটো কার্ড
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। শুক্রবার বিকেলে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র স্পিকারের দপ্তরে পৌঁছানোর পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং সংবিধান অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা দেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে স্পিকার বলেন, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি তাঁর স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তা গ্রহণ করা হয়েছে এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়কে পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের কারণ সম্পর্কে স্পিকার জানান, লিখিত ব্যাখ্যায় মো. সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেছেন যে তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি-সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছেন। অতীতে তাঁর বাইপাস সার্জারিও হয়েছে। সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অটোনমিক নিউরোপ্যাথি শনাক্ত হয়েছে, যার কারণে তিনি মাঝেমধ্যে অচেতন হয়ে পড়েন।

স্পিকারের ভাষ্য, এসব শারীরিক জটিলতার পাশাপাশি মানসিকভাবে দায়িত্ব পালনে অক্ষমতা তৈরি হওয়ায় রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা তাঁর পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছিল না। এ কারণে তিনি দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়ে স্পিকার বলেন, সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার হিসেবে শপথ গ্রহণের সময়ই প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের শপথও নেওয়া থাকে। ফলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে চলমান বিভিন্ন আলোচনা প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, এ বিষয়ে নানা ধরনের বক্তব্য থাকলেও তাঁর কাছে জমা দেওয়া পদত্যাগপত্রে স্পষ্টভাবে স্বাস্থ্যগত কারণের কথাই উল্লেখ করা হয়েছে।

বক্তব্যের শেষদিকে সাবেক রাষ্ট্রপতির দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন স্পিকার। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংবিধান অনুযায়ী পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়াও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হবে।

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত