বিএনপির সব ক্ষমতার উৎস জনগণ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
বিএনপির সব ক্ষমতার উৎস দেশের জনগণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের সমর্থন থাকলে সরকারের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
রোববার চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া সমুদ্রপাড়ে আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ। আর জনগণের সমর্থন থাকলে আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সক্ষম হবো, ইনশাআল্লাহ। আমরা চাই ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তর করতে। আমাদের কাজ করতে হবে। ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। শিল্পের বিপ্লব ঘটাতে হবে।’
সম্প্রতি অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্যায় অনেক মানুষের ঘরবাড়ি নষ্ট হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ১০০টি বাড়ির চাবি হস্তান্তর করা হচ্ছে এবং দুস্থ নারীদের চাল দিয়ে সহায়তা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, জনগণ বর্তমান সরকারকে নির্বাচিত করেছে। তাই মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা, মা-বোনদের সহায়তা করা, সন্তানদের লেখাপড়ার সুযোগ নিশ্চিত করা, চিকিৎসাসেবা দেওয়া এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সরকারের দায়িত্ব।
‘৪১ লাখ পরিবার পাবে ফ্যামিলি কার্ড’
নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দেশের নারীদের স্বাবলম্বী করতে ঘরে ঘরে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই এর পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয় এবং তা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।
তিনি বলেন, চলতি মাসের ১৬ তারিখ থেকে ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম শুরু হবে। এ বছর সারাদেশে প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের মায়েদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে। বাঁশখালী উপজেলায় আগামী অর্থবছরের মধ্যে ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবারের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ কার্যক্রম আগামী চার বছর চলবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীদের সংসারের দায়িত্ব পালনে আরও সক্ষম করে তোলা হবে। এর পাশাপাশি কৃষকদের সহায়তার জন্য কৃষক কার্ডের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
‘লবণচাষিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা হবে’
লবণচাষিদের স্বাবলম্বী করতে লবণের মূল্য নির্ধারণে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, যে দামে লবণ বিক্রি করলে চাষিরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন, সেই বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে। শিগগিরই নির্ধারিত মূল্য সবাইকে জানানো হবে।
তিনি বলেন, এর ফলে লবণচাষিদের আগের মতো লোকসান ও দুর্ভোগে পড়তে হবে না।
‘সমুদ্র বাংলাদেশের সম্পদ’
চট্টগ্রামের সমুদ্রভিত্তিক অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাতারবাড়ী ও মীরসরাইসহ পুরো উপকূলীয় অঞ্চল বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। সমুদ্রের মালিক দেশের জনগণ। এই সম্পদকে কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি করতে হবে।
তিনি বলেন, মীরসরাই থেকে মাতারবাড়ী পর্যন্ত বিভিন্ন শিল্প ও কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রামে চীনের বিনিয়োগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, চীন থেকে ফিরে তিনি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। চট্টগ্রামের একটি বড় এলাকায় চীনা বিনিয়োগে কয়েক শ শিল্পকারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব শিল্পকারখানায় চট্টগ্রামের মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
এর মাধ্যমে বেকারত্ব কমানোর পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজে লাগানোর কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
উপজেলা হাসপাতাল ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করেছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে বেগম খালেদা জিয়া সেখানে আরও ২০টি শয্যা যুক্ত করেছিলেন।
তিনি বলেন, বিএনপি সরকার দেশের ৫০৩টি উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
‘শান্তি-শৃঙ্খলা ছাড়া কর্মসংস্থান সম্ভব নয়’
দেশে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বাড়াতে শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাজারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। একইভাবে বিনিয়োগকারীরাও এমন পরিবেশ চান, যেখানে বন্দর দিয়ে নির্বিঘ্নে কাঁচামাল আনা এবং উৎপাদিত পণ্য পরিবহন করা সম্ভব।
তারেক রহমান বলেন, যারা দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায়, তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বিভ্রান্তিকর প্রচার বা অপতৎপরতার সুযোগ দেওয়া হলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের সাধারণ মানুষ।
জনসভায় আরও বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। স্বাগত বক্তব্য দেন মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা আবদুল করিম।