পটুয়াখালীর সদর উপজেলায় মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে রিপন কাজী (৩৮) নামে এক শ্রমিক দল নেতাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মরিচবুনিয়া ইউনিয়নের গগনখা বাজারসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রিপন কাজী মরিচবুনিয়া ও আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী কালীবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মিজানুর রহমান কাজী। তিনি গুলিশাখালী ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি ছিলেন।
নিহতের পরিবার অভিযোগ করেছে, রাজনৈতিক আধিপত্য ও পারিবারিক বিরোধের জেরে রিপনের চাচাতো ভাইয়েরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁকে হত্যা করেছেন। হামলার সময় তাঁর বাবা মিজানুর রহমান কাজীও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের চাচাতো ভাই রাজীব কাজী জানান, মঙ্গলবার রাতে তিনি ও রিপন মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। ফারুক মাস্টারের বাড়ির সামনে পৌঁছালে চাচাতো ভাই রাসেল কাজী মোটরসাইকেল থামান। এরপর হঠাৎ রাসেল, রিফাত কাজী, সোহাগ কাজী, রাহাত কাজী, রিফাতের খালাতো ভাই পলাশসহ ৭–৮ জন ধারালো অস্ত্র নিয়ে রিপনের ওপর হামলা চালান। প্রাণ বাঁচাতে তিনি পাশের একটি খালে ঝাঁপ দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা রিপনকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ছোট ভাই রাব্বী কাজী বলেন, তাঁর ভাই গুলিশাখালী ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি ছিলেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত রিফাত কাজী একই ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি। স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং পারিবারিক জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরেই পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে তাদের দাবি।
রাব্বী আরও জানান, এ ঘটনায় নিহতের মা আমেনা বেগম বাদী হয়ে পটুয়াখালী সদর থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ঘটনার পর অভিযুক্ত মিজানুর রহমান কাজীসহ অন্যদের কাউকেই এলাকায় পাওয়া যায়নি। তারা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।