জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে লঞ্চের ভাড়া তুলনামূলক কম বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি জানান, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর লঞ্চের ভাড়া বাড়ানো হলেও আপাতত ট্রেনের ভাড়া বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে লঞ্চের ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে ব্রিফিংকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে বাসভাড়ার পর এবার লঞ্চের ভাড়া সমন্বয় করা হয়েছে। তবে ট্রেনের ভাড়া বাড়ানো হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
তিনি বলেন, রেলের ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে চাপ রয়েছে। ভাড়া না বাড়ালে রেলের লোকসান আরও বাড়তে পারে। তবে আপাতত ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আগের ভাড়া বহাল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, শেষ পর্যন্ত যদি রেলের ভাড়া বাড়াতেই হয়, তাহলে তা যৌক্তিক হারে বাড়ানো হবে। তবে এখন পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি এবং ভাড়া না বাড়ানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।
লঞ্চের ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও পরিচালন ব্যয়সহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নৌযান মালিকরা ১৫ শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানিয়েছিলেন। তবে যাত্রীদের কথা বিবেচনা করে ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।
তিনি জানান, লঞ্চের সর্বনিম্ন ভাড়া আগে ছিল ৩২ টাকা। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা বাড়িয়ে ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ভাড়া বাড়ানো কাম্য নয়। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হয়েছে। এ কারণে জনদুর্ভোগ বিবেচনা করেই সর্বনিম্ন পর্যায়ে ভাড়া সমন্বয়ের চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভাড়া বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে কোনো ধরনের নৈরাজ্য বা স্বেচ্ছাচারিতা বরদাশত করা হবে না।
সিএনজিচালিত যানবাহনের ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ রবিউল আলম বলেন, সিএনজির দাম বাড়েনি। ফলে সিএনজিচালিত যানবাহনের ভাড়া বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। কেউ বাড়তি ভাড়া নিলে বা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।