ইতালিতে বাংলাদেশি পরিবারের তিন সদস্য নিহত, নোয়াখালীর বাড়িতে শোকের মাতম

নিজস্ব প্রতিবেদক
| ফটো কার্ড
 ছবি: পরিবারের সৌজন্যে
ছবি: পরিবারের সৌজন্যে

ইতালির রাজধানী রোমে বাংলাদেশি এক পরিবারের তিন সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে। ধারালো অস্ত্রের হামলায় নিহত হয়েছেন স্বামী, স্ত্রী ও তাদের পাঁচ বছর বয়সী কন্যা। একই ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন পরিবারের আরেক সদস্য।

স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত প্রায় ৯টার দিকে রোমের পশ্চিমাঞ্চলের ক্যাসালোত্তি এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন ওরফে বাবুল (৩৯), তার স্ত্রী আরজু আক্তার (৩৮) এবং মেয়ে আরিশা (৫)। তাদের ছেলে অয়ন (২০) গুরুতর আহত অবস্থায় রোমের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার সকালে ইতালি থেকে এই দুঃসংবাদ পৌঁছালে পুরো পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহত কামালের বাবা-মা এবং স্বজনরা বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। খবর পেয়ে দূর-দূরান্ত থেকে আত্মীয়-স্বজনরা তাদের বাড়িতে ছুটে আসছেন।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পরপরই কয়েকজন দুর্বৃত্ত কামাল উদ্দিনের পিছু নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়। ঘটনাস্থলেই কামাল, তার স্ত্রী ও ছোট মেয়ে নিহত হন। প্রতিবেশীরা চিৎকার শুনে এগিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের দেখতে পান। পরে আহত অয়নকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ইতালিতে অবস্থানরত স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন নিহত কামালের চাচাতো ভাই ইউনুছ সুমন। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের কারণ কিংবা কারা এর সঙ্গে জড়িত—এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ইতালির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালে ইতালিতে পাড়ি জমান কামাল উদ্দিন। দীর্ঘদিন সেখানে বসবাসের পর ২০২৪ সালে দেশে এসে স্ত্রী-সন্তানদেরও ইতালিতে নিয়ে যান। সর্বশেষ গত বছর তিনি নিজ গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকিম জানান, স্থানীয়ভাবে ঘটনাটি সম্পর্কে তারা অবগত হয়েছেন এবং নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত