ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সংসদ অভিমুখে পদযাত্রাকে ঘিরে পুলিশের প্রস্তুতি ও গোয়েন্দা মূল্যায়ন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা পূর্বাভাসের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে বিভিন্ন সূত্রের তথ্য থেকে জানা গেছে।
যন্তর মন্তর এলাকায় আন্দোলনের জন্য নির্ধারিত স্থানের ধারণক্ষমতা সীমিত হলেও কর্মসূচির আগের দিন থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক সমর্থক সেখানে জড়ো হতে থাকেন। পরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা মিলিয়ে আন্দোলনকারীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিল্লি পুলিশ আগে থেকেই অতিরিক্ত সদস্য, প্যারামিলিটারি বাহিনী এবং একাধিক স্তরের ব্যারিকেড মোতায়েন করেছিল। সংসদ ভবনের দিকে যাওয়ার প্রধান সড়কগুলোতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। তবে পরিস্থিতির অবনতি হলে আরও পুলিশ সদস্যকে জরুরি ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।
পরিস্থিতি শান্ত রাখতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আন্দোলনের আয়োজকদের সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনা করেন। সীমিত পরিসরে কর্মসূচি চালিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সমঝোতার চেষ্টা হলেও শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়নি।
বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ব্যারিকেড অতিক্রমের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জের আশ্রয় নেয়। অপরদিকে কয়েকটি স্থানে আন্দোলনকারীদের দিক থেকেও ইট-পাটকেল, বোতল ও অন্যান্য বস্তু নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীর প্রকৃত সংখ্যা এবং পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন সম্পর্কে পূর্বাভাস যথাযথ না হওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হয়। ঘটনাটি ভবিষ্যতে বড় ধরনের জনসমাবেশ মোকাবিলায় গোয়েন্দা মূল্যায়ন ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে এনেছে।