ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলেও, দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা থামছে না। তবে এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছেন তাঁর বাবা ভগবান শঙ্কর। তাঁর ভাষ্য, অভিজিৎ রাজনীতিতে যোগ দেবে না।
শনিবার শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টা পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে অভিজিৎ দিপকে লিখেছিলেন, "একটু ঘুমাতে যাচ্ছি। কিছুক্ষণ পর আবার সবার সঙ্গে দেখা হবে।" শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং আন্দোলনের সফল সমাপ্তির পর এই পোস্টটি ব্যাপক আলোচনায় আসে।
এক পোস্ট থেকেই যাত্রা
গত ১৬ মে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) গঠন করেন অভিজিৎ দিপকে। সে সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষায় ছিলেন।
এর আগের দিন ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। অনেকের দাবি ছিল, সেই মন্তব্যে বেকার তরুণদের 'তেলাপোকা'র সঙ্গে তুলনা করা হয়েছিল। এর পরদিনই দিপকে এক্সে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, "যদি সব তেলাপোকা একসঙ্গে আসে, তাহলে কী হবে?" সেই পোস্ট থেকেই সিজেপির যাত্রা শুরু।
অল্প সময়ের মধ্যেই দলটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। পরে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন অভিজিৎ।
অনলাইন আন্দোলনের পাশাপাশি সরাসরি অংশ নিতে গত ৬ জুন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফিরে যন্তর মন্তরের আন্দোলনে যোগ দেন তিনি।
ছেলের সাফল্যে গর্বিত পরিবার
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং আন্দোলনের সফল সমাপ্তিতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অভিজিতের বাবা-মা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় ভগবান শঙ্কর বলেন,
"আমি কখনো কল্পনাও করিনি, সে এতটা বড় হয়ে উঠবে।"
মা অনিতা বলেন,
"এটা আমাদের জন্য বড় একটি জয়। অভিজিৎ ধৈর্য ধরে লড়াই করেছে। তাকে নানা অপবাদ দেওয়া হয়েছে, এমনকি শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতও হতে হয়েছে। এত অল্প বয়সে সে বড় একটি অর্জন করেছে।"
তিনি জানান, শুরুতে ছেলের কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকলেও পরে বুঝতে পারেন, সে শিক্ষার্থীদের স্বার্থেই আন্দোলন করছে।
রাজনীতি নয়, বাবার স্বপ্ন প্রশাসনে
ছেলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ভগবান শঙ্কর বলেন,
"অভিজিৎ কখনোই রাজনীতিতে যাবে না।"
তিনি জানান, তাঁদের পরিবারের কেউ কখনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এমনকি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিও ছিলেন না।
ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের স্বপ্নের কথাও জানান তিনি।
"আমি সব সময় চাইতাম, সে যেন ইউপিএসসি পাস করে সিভিল সার্ভিসে যোগ দেয়। এতে তার একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল কর্মজীবন হবে।"
সাংবাদিকতা থেকে আন্দোলনের নেতৃত্ব
অভিজিৎ দিপকে ২০২১ সালে পুনের তিলক মহারাষ্ট্র বিদ্যাপীঠ থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে জনসংযোগ বিষয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ অব কমিউনিকেশনে ভর্তি হন।
তাঁর বাবা জানান, অবসরের আগে শিক্ষাঋণ নিয়ে ছেলেকে বিদেশে পড়তে পাঠিয়েছিলেন। তিনি বলেন,
"আমি এখনো তার শিক্ষাঋণের কিস্তি পরিশোধ করছি।"
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ছোটবেলায় অভিজিতের আগ্রহ ছিল ক্রিকেট, পরে তিনি সাংবাদিক হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। তবে সাম্প্রতিক শিক্ষার্থী আন্দোলনের নেতৃত্ব তাঁকে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত একটি মুখে পরিণত করেছে।