দিল্লির ছাত্র আন্দোলন নিয়ে পোস্ট, দুই দিনে ৩ লাখের বেশি অনুসারী হারালেন পার্ল মানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
| ফটো কার্ড
 ছবি: Instagram
ছবি: Instagram

ভারতের দিল্লিতে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টের জেরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন মালয়ালম অভিনেত্রী, উপস্থাপক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর পার্ল মানি। বিতর্কের প্রভাবে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে ইনস্টাগ্রামে তাঁর তিন লাখের বেশি অনুসারী কমে গেছে। পাশাপাশি ফেসবুক ও ইউটিউবেও অনুসারী হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম।

গত ২৪ জুলাই নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন পার্ল। সে সময় তাঁর অনুসারী ছিল প্রায় ২৭ লাখ। ২৬ জুলাই সেই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় প্রায় ২৪ লাখে। পোস্টটি ঘিরে সমালোচনা বাড়তে থাকলে তিনি মন্তব্য করার সুযোগ বন্ধ করে দেন। তবে তাঁর অন্য পোস্টগুলোর মন্তব্যের ঘরে সমালোচনা অব্যাহত থাকে।

অনেক ব্যবহারকারী দাবি করেন, পার্ল আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বাস্তব পরিস্থিতি উপলব্ধি করতে পারেননি। একজন মন্তব্য করেন, "আপনি চাপ কী, তা বোঝেন না। আমরা প্রতিটি সুযোগ আর ভবিষ্যতের জন্য লড়াই করি।" আরেকজন লেখেন, "মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা বললেও মন্তব্যের সুযোগ কেন বন্ধ করে দিলেন?"

কী লিখেছিলেন পার্ল?

পোস্টে পার্ল আন্দোলনের ঘটনাকে "বেদনাদায়ক" ও "হৃদয়বিদারক" বলে উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন, "দয়া করে আহত হয়ো না, নিরাপদে থাকো। যদি মনে হয় জীবন ঝুঁকিতে, তাহলে বাড়ি ফিরে যাও। কোনো আন্দোলনই একটি প্রাণের চেয়ে মূল্যবান নয়।"

একই সঙ্গে তিনি শিক্ষার্থীদের ন্যায্য শিক্ষাব্যবস্থার দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য যেন হারিয়ে না যায়, সেদিকেও সবার নজর রাখা প্রয়োজন।

তিনি আরও লেখেন, "যখন কোনো আন্দোলন বড় হয়ে ওঠে, তখন আবেগও তীব্র হয়। নানা মত সামনে আসে এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। আমার আশা, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও তাদের ন্যায্য দাবি।"

পোস্টের ক্যাপশনে তিনি লিখেছিলেন, "কমেন্ট সেকশন আমার মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতিফলন।" তবে সমালোচনা বাড়তেই পরে মন্তব্যের অপশন বন্ধ করে দেন।

নতুন বিতর্ক

বিতর্কের মধ্যে ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে আরেকটি পোস্ট দিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দেন পার্ল। সেখানে নাম উল্লেখ না করে এক **"ব্যর্থ চলচ্চিত্র নির্মাতা"**কে কটাক্ষ করেন।

তিনি লেখেন, "আমি শান্তি, নিরাপত্তা ও অহিংসার কথা বলেছি। অথচ একজন ব্যর্থ নির্মাতা আমার চার পাতার পোস্ট নিয়ে ১০ পাতার চিত্রনাট্য লিখছেন এবং সেটিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করার চেষ্টা করছেন।"

আরেকটি স্টোরিতে তিনি লেখেন, "আমার সবচেয়ে প্রিয় রং গেরুয়া, বিশেষ করে ভারতের জাতীয় পতাকায় থাকা গেরুয়া রং।" এই মন্তব্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন বিতর্ক তৈরি করে।

পাল্টা জবাব

পার্লের বক্তব্যের জবাব দেন মালয়ালম চলচ্চিত্র নির্মাতা সিবি মালয়িলের ছেলে জো মালয়িল। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে তিনি লেখেন, "যে 'ব্যর্থ নির্মাতা'র কথা বলছেন, তিনি আমার বাবা। কার সম্পর্কে কথা বলছেন, আগে সেটা জেনে নিন। আপনার ৫৭ লাখ অনুসারীর কাছে চার পাতার লেখা পড়ার আশা করেন, অথচ সাতটি স্লাইড পড়তেই আপনার কষ্ট হয়?"

এর আগে জো মালয়িলও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়ে পার্লের অবস্থানের সমালোচনা করেছিলেন।

নেটদুনিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া

পুরো ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভক্ত প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একপক্ষ পার্ল মানির শান্তি ও অহিংসার আহ্বানকে সমর্থন জানালেও, অন্যপক্ষের অভিযোগ—তাঁর বক্তব্য শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রকৃত বাস্তবতা ও ক্ষোভকে যথাযথভাবে তুলে ধরেনি।

সমালোচনার জেরে ইনস্টাগ্রামে কয়েক লাখ অনুসারী হারানো এবং মন্তব্যের সুযোগ বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাই এখন এই বিতর্কের মূল আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত