প্রেমিকাকে হত্যার অভিযোগে ভারতীয় তরুণ গ্রেপ্তার, জার্মানি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরানোর প্রস্তুতি
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে ১৯ বছর বয়সী প্রেমিকাকে হত্যার অভিযোগে ২০ বছর বয়সী এক ভারতীয় তরুণকে জার্মানি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডের পর তিনি জার্মানি হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
স্থানীয় পুলিশ ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টাকসনের একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে কলেজছাত্রী জুলিসা রুবি সালাজারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে পুলিশকে বিষয়টি জানান।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ ও জরুরি বিভাগের কর্মীরা ইউক্লিড অ্যাভিনিউ ও এলম স্ট্রিটের কাছে ওই অ্যাপার্টমেন্টে যান। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সালাজারকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। ঘটনাস্থলেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সালাজারের শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। প্রাথমিক তদন্তে তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তদন্তকারীরা সালাজারের ২০ বছর বয়সী প্রেমিক বরুণ বাচিগারিকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করেন। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, সালাজারের মৃত্যুর পর তাঁর ফোন ও ক্রেডিট কার্ড নিয়ে নেন বাচিগারি। পরে ওই ফোন ব্যবহার করে সালাজারের মাকে একাধিক খুদে বার্তাও পাঠানো হয়।
তদন্তে আরও জানা যায়, সালাজারের মৃত্যুর দিনই বাচিগারি টাকসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান। সেখান থেকে তিনি প্রথমে হিউস্টনে এবং পরে জার্মানির বার্লিনে যান। তাঁর চূড়ান্ত গন্তব্য ছিল ভারত বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
এরপর হত্যা ও অপহরণের অভিযোগে বাচিগারির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। ফেডারেল, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সহযোগিতায় তাঁকে জার্মানি থেকে আটক করা হয়।
এদিকে সালাজারের রুমমেটরা জানিয়েছেন, তাঁর মৃত্যুর কয়েক দিন আগে ৫ আগস্ট রাতে শোবার ঘর থেকে চিৎকারের শব্দ শুনেছিলেন তাঁরা। পরে সালাজারকে খুদে বার্তা পাঠিয়ে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি ঠিক আছেন বলে জানিয়েছিলেন এবং শব্দটি একটি ঝগড়ার কারণে হয়েছে বলে জানান।
তদন্তকারীদের কাছে আরও তথ্য এসেছে যে সালাজার বাচিগারির সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করার পরিকল্পনা করছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে বাচিগারির যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওই বিষয়ে পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা হয়নি বলে জানা গেছে।
বাচিগারির বিরুদ্ধে এর আগে পিমা কাউন্টিতে পৃথক একটি হামলার মামলাও চলছিল। আদালতের নথি অনুযায়ী, গত মে মাসে ওই মামলা করা হয়।
বাচিগারি আগে অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজনেস অ্যানালিটিকস বিষয়ে পড়াশোনা করতেন। একটি মারামারির ঘটনার পর তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে চাকরিও হারান তিনি। এতে বাড়িভাড়া পরিশোধ এবং তাঁর ভিসার বৈধতা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল বলে জানা গেছে।
বর্তমানে বাচিগারি জার্মানিতে নিরাপত্তা হেফাজতে রয়েছেন। তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া চলছে। অ্যারিজোনায় ফেরত নেওয়ার পর পিমা কাউন্টিতে তাঁকে হত্যা মামলায় বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।