‘বন্দে মাতরম’ না গাওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ নয়: সুপ্রিম কোর্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
| ফটো কার্ড
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বিবেকের কারণে কেউ ভারতের জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে অস্বীকৃতি জানালে সেটিকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা উচিত নয় বলে মৌখিক পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।

মঙ্গলবার ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করা এবং এর সঙ্গে শাস্তির বিধান যুক্ত করার সরকারি সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে করা এক মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ পর্যবেক্ষণ দেন।

আদালত বলেন, কোনো নাগরিক বিবেকের কারণে পুরো গানটি গাইতে না চাইলে তাকে তা গাইতে বাধ্য করা বা এ কারণে শাস্তি দেওয়ার বিষয়টি আদালত বিবেচনা করতে পারে। তবে ‘জাতীয় গান’-এর সংজ্ঞা নির্ধারণ করা আদালতের এখতিয়ার নয় বলেও বেঞ্চ মন্তব্য করেন।

বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের মতামতও চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। দুই সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রকে তাদের অবস্থান জানাতে বলা হয়েছে।

পুরো ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া নিয়ে বিতর্ক

‘বন্দে মাতরম’-এর মোট ছয়টি স্তবক রয়েছে। প্রচলিতভাবে এর প্রথম দুটি স্তবক বিভিন্ন জাতীয় ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে বেশি গাওয়া হয়। পরবর্তী স্তবকগুলোতে হিন্দু দেবী দুর্গা, কালী, লক্ষ্মী ও সরস্বতীর উল্লেখ থাকায় সেগুলো নিয়ে ঐতিহাসিকভাবে বিতর্ক রয়েছে।

১৯৩৭ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতারা গানটির বিষয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতামত জানতে চেয়েছিলেন। সে সময় প্রথম দুটি স্তবক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয় এবং পরবর্তী সময়ে সেটিই প্রচলিত রীতি হিসেবে অনুসরণ করা হয়েছে।

বর্তমানে ‘বন্দে মাতরম’-এর সব স্তবক গাওয়া বাধ্যতামূলক করা এবং তা না মানলে শাস্তির বিধান নিয়ে আদালতে একাধিক আবেদন করা হয়েছে।

টি এম কৃষ্ণের আবেদন

বিশিষ্ট কর্ণাটকী সংগীতশিল্পী টি এম কৃষ্ণ সুপ্রিম কোর্টে একটি রিট আবেদন করেছেন। এতে জাতীয় গানের সব স্তবক গাওয়া বাধ্যতামূলক করার সরকারি নির্দেশ এবং তা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তির বিধানকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

মামলার শুনানিতে তাঁর পক্ষে আইনজীবী এস মুরলীধর যুক্তি দেন, গানটির পরবর্তী স্তবকগুলোতে হিন্দু দেবীদের উল্লেখ রয়েছে। ফলে সম্পূর্ণ গান গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হলে তা দেশের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে বলে তিনি দাবি করেন।

অন্যদিকে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা কেন্দ্রের অবস্থান তুলে ধরেন। শুনানির সময় দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে এ বিষয়ে তর্ক হয়। পরে বিচারপতিরা জানান, ওই বিতর্কিত মন্তব্যগুলো আদালতের নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।

বিজোই ইমানুয়েল মামলার প্রসঙ্গ

শুনানিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ১৯৮৬ সালের বিজোই ইমানুয়েল মামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। ওই মামলায় ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে জাতীয় সংগীত না গাওয়ায় কেরালার একটি স্কুলের তিন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। পরে সুপ্রিম কোর্ট তাদের পক্ষে রায় দেয়।

মঙ্গলবারের শুনানিতে ওই রায়ের নীতিগত দিকগুলোও আলোচনায় আসে। মামলাটির পরবর্তী শুনানিতে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান আরও স্পষ্ট হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন বিধানের মধ্যেও ভারতের কংগ্রেস দলীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ঐতিহাসিক রীতি অনুযায়ী ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রথম দুটি স্তবক গেয়ে থাকে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও মতপার্থক্য রয়েছে।

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত