ভারত ও প্রতিবেশী অরুণাচল প্রদেশে কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টির ফলে আসামে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বন্যার প্রথম ধাক্কাতেই রাজ্যের অন্তত ছয়টি জেলায় ২২ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
রোববার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে ব্রহ্মপুত্র নদ এবং এর বিভিন্ন উপনদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলেছে।
আসাম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এএসডিএমএ) জানিয়েছে, ধেমাজি, নলবাড়ি, ডিব্রুগড়, চিরাং, লখিমপুর ও কোকরাঝাড় জেলায় মোট ২২ হাজার ১২৪ জন মানুষ বন্যার কবলে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ধেমাজি জেলা, যেখানে প্রায় ১৫ হাজার ৫০০ মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবিক সংকটে রয়েছেন।
সরকারি হিসাবে, বন্যার পানিতে অন্তত ৯৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১ হাজার ৬৯০ হেক্টর কৃষিজমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৪৮ হাজার ১৯৯টি গবাদিপশু ও অন্যান্য প্রাণীও বন্যার কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছে। শিবসাগর জেলার নাঙ্গলামুরাঘাট এলাকায় দিসাং নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।
এদিকে প্রবল বর্ষণ ও নদীভাঙনের কারণে ধেমাজি জেলার শিমেন নদীর ওপর নির্মিত একটি রেলসেতুর অংশ বিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে জানিয়েছে, ধেমাজি এলাকায় ১১০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতে আর্চিপাথার ও সিমন চাপারি স্টেশনের মধ্যবর্তী রেলপথে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, ১৯৬৫ সালে নির্মিত সেতুটি আগে নিরাপদ অবস্থায় ছিল। তবে অতিবৃষ্টির ফলে নদীতীরের বড় অংশ ভেঙে পড়ায় সেতুর একটি স্তম্ভ অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। সৌভাগ্যবশত, এটি কম ব্যবহৃত একটি শাখা রেলপথ হওয়ায় আগেই ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ফলে কোনো দুর্ঘটনা বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনসুকিয়া বিভাগের মুরকংসেলেক ও সিলাপাধারের মধ্যকার ট্রেন চলাচল স্থগিত থাকবে। আপাতত ট্রেনগুলো সিলাপাধার পর্যন্ত চলাচল করবে এবং সেখান থেকেই ফিরতি যাত্রা শুরু করবে।
যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে মুরকংসেলেক ও সিলাপাধারের মধ্যে বিশেষ বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে রেলওয়ে। পাশাপাশি ধেমাজি, সিলাপাধার ও মুরকংসেলেক স্টেশনে যাত্রীদের সহায়তার জন্য বিশেষ হেল্প ডেস্ক চালু করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে।