ইরানে খামেনির শেষবিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু, মরদেহ রাখা হলো তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
| ফটো কার্ড
 ছবি: এএফপি
ছবি: এএফপি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষবিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। শুক্রবার ভোরে তাঁর মরদেহ রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় নেওয়া হয়। সেখানে দেশি-বিদেশি অতিথি, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে খামেনি এবং তাঁর সঙ্গে নিহত অন্য ব্যক্তিদের মরদেহ গ্র্যান্ড মোসাল্লার প্রধান নামাজের কক্ষে রাখা হয়েছে। সেখান থেকেই শুরু হয়েছে আনুষ্ঠানিক শেষশ্রদ্ধা নিবেদন।

প্রথম দিকের বিদেশি অতিথিদের মধ্যে ইন্দোনেশিয়া ও আফগানিস্তানের ইসলামি আলেম ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ইরানে স্বীকৃত বিভিন্ন ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, শেষবিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় প্রায় ১০০টি দেশের প্রতিনিধিদল অংশ নেবে। প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রীসহ অন্তত আটজন সরকারপ্রধান, ১২টি দেশের পার্লামেন্ট স্পিকার এবং বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, মন্ত্রী ও বিশেষ দূত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।

তিনি আরও জানান, বিশ্বের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও এ আয়োজনে অংশ নেবেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানিয়েছে—এমন কয়েকটি ইউরোপীয় দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

সরকারি আনুষ্ঠানিকতার আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি ব্যক্তিগত বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাম্প্রতিক যুদ্ধে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য এবং সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের কর্মীদের স্বজনেরা অংশ নেন।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশবাসীর প্রতি শেষবিদায়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জাতিগত পরিচয়, রাজনৈতিক মত, ধর্ম বা আদর্শ নির্বিশেষে সবাইকে মর্যাদাপূর্ণ ও ঐক্যবদ্ধভাবে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

ইরানি কর্মকর্তাদের ধারণা, কয়েক দিনের এ শোকানুষ্ঠানে দেড় কোটি থেকে দুই কোটি মানুষ অংশ নিতে পারেন। শনিবার ও রোববার গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ রাখা হবে। এরপর তেহরান, কুম, ইরাকের বাগদাদ, কারবালা ও নাজাফে শোকানুষ্ঠান শেষে আগামী ৯ জুলাই মাশহাদে তাঁকে দাফন করা হবে।

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত