ইরানকে ‘মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার’ হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, উত্তেজনা আরও তীব্র

নিজস্ব প্রতিবেদক
| ফটো কার্ড
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবারও পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযানে যেতে বাধ্য হয়, তাহলে ইরানের অস্তিত্বই বিলীন হয়ে যেতে পারে। শনিবার (২৭ জুন) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলার ঘটনার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একাধিক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পরই ট্রাম্পের এই কড়া বার্তা আসে। তাঁর দাবি, যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের কারণে মার্কিন বিমানবাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং উপকূলীয় রাডার স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের চেষ্টা করছে। তবে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যখন চলমান সামরিক অভিযান সম্পূর্ণভাবে শেষ করতে বাধ্য হতে হবে। সেই পরিস্থিতি তৈরি হলে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পাল্টা জবাবে ইরান টানা তৃতীয় দিনের মতো প্রতিশোধমূলক হামলা চালানোর দাবি করেছে। একই সঙ্গে উভয় দেশই একে অপরকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান শান্তি প্রচেষ্টা আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলা পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া শান্তি প্রক্রিয়ার ভঙ্গুর অবস্থাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটানো। ওই সংঘাতের প্রভাবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা দেখা দেয়।

এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের ওপর আরও কঠোর নজরদারি আরোপ করা হচ্ছে। তারা সতর্ক করেছে, নির্ধারিত নিয়ম অমান্যকারী জাহাজের বিরুদ্ধে আগের চেয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তাদের দাবি, প্রতিশোধমূলক অভিযানের অংশ হিসেবে কুয়েত ও বাহরাইনেও হামলা চালানো হয়েছে। ইরানি বিপ্লবী গার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, কুয়েতের আলী আল-সালেম ঘাঁটি এবং বাহরাইনের পোর্ট সালমানে অবস্থিত মার্কিন নৌঘাঁটির আটটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে।

এক বিবৃতিতে তারা জানায়, শত্রুপক্ষ যেকোনো ধরনের আগ্রাসন চালালে, লক্ষ্যবস্তু যত ছোটই হোক না কেন, তার জবাব হবে কঠোর ও বিধ্বংসী।

এদিকে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববার দেশটিতে দু’দফা বিমান হামলার সতর্কতা সংকেত বাজানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, জুনের মাঝামাঝি সময়ে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ওই সমঝোতায় উভয় পক্ষ এবং তাদের মিত্ররা একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বা শক্তি প্রয়োগ থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে সেই সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত