প্রস্তাবিত ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে মুদি দোকান, রেস্তোরাঁসহ ১৬টি খুচরা ও সেবাখাতকে ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। সংগঠনটির দাবি, ক্ষুদ্র ও অতিক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ভ্যাটের বাইরে রাখতে হবে, না হলে তারা মাঠপর্যায়ে হয়রানির শিকার হবেন এবং এসএমই খাতে অস্থিরতা সৃষ্টি হবে।
শনিবার রাজধানীর মগবাজারে সংগঠনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন। এ সময় মহাসচিব মো. জহিরুল হক ভূঁইয়াসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী নেতা উপস্থিত ছিলেন।
সমিতির নেতারা বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী ১৬টি খাতকে সুনির্দিষ্ট কর ব্যবস্থার আওতায় আনা হলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য তা বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে। ভোক্তার কাছ থেকে কীভাবে ভ্যাট আদায় করা হবে, সে বিষয়েও কোনো স্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই।
তারা স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৯১ সালে দেশে ভ্যাট চালুর সময় তৎকালীন অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান হাট-বাজার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর ভ্যাট আরোপ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বর্তমান প্রস্তাব সেই নীতির পরিপন্থী বলেও দাবি করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে ভ্যাট আদায়ের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়, দেশে প্রায় ৮ লাখ ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান থাকলেও গত অর্থবছরের মোট ভ্যাটের প্রায় ৬০ শতাংশ এসেছে মাত্র ১০৯টি বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে। আর বড় প্রায় ৫ হাজার প্রতিষ্ঠানই মোট রাজস্বের ৯৮ শতাংশ দিয়েছে। তাই বড় প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট ফাঁকি রোধে জোর দিলে রাজস্ব বাড়বে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করার প্রয়োজন হবে না।
দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, খুচরা ব্যবসায়ীদের হয়রানি না করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দ্রুত অটোমেশন চালু করা উচিত। একই সঙ্গে উৎস পর্যায় ও বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে কার্যকরভাবে ভ্যাট আদায়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এ ছাড়া আয়কর আইনের ২১৬ ধারাকে ‘নিপীড়নমূলক’ উল্লেখ করে তা বাতিলের দাবি জানানো হয়। ব্যবসায়ী নেতাদের অভিযোগ, এই ধারার কারণে কর কর্মকর্তারা অতিরিক্ত ক্ষমতা পাচ্ছেন এবং সাধারণ ব্যবসায়ীদের অযথা আইনি হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে।
কর ব্যবস্থার সংস্কারের অংশ হিসেবে তারা প্রস্তাব দেন, প্রতি অর্থবছরের আয়কর ও ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য অর্থবছর শেষ হওয়ার পর ছয় মাস সময় দিতে হবে। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কর পরিশোধের সনদ প্রদান নিশ্চিত করারও দাবি জানান তারা।
হেলাল উদ্দিন বলেন, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির বিলের মতো কর ও ভ্যাট পরিশোধের ক্ষেত্রেও একটি স্বচ্ছ সনদ ব্যবস্থা চালু করা উচিত। পাশাপাশি অডিট বা কথিত বকেয়া করের অজুহাতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হয়রানি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।