অফিস শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এক নির্বাহী পরিচালক, দুই পরিচালকসহ ১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বুধবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে।
এ ছাড়া আরও পাঁচ কর্মকর্তার বেতনবৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্ট বাতিল করে তাঁদের বেতন স্কেলের নিম্নস্তরে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার তাঁদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিষয়টি জানানো হয়।
২০২৫ সালের ৫ মার্চ তৎকালীন বিএসইসি চেয়ারম্যান খোন্দকার রাশেদ মাকসুদ ও কমিশনারদের অবরুদ্ধ করে প্রতিবাদ এবং অফিসের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের পর এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিএসইসি প্রতিষ্ঠার পর একসঙ্গে এতসংখ্যক কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর ঘটনা এবারই প্রথম বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এর আগে প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগে ২০২৫ সালের ৪ মার্চ নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল।
সাইফুর রহমানকে অবসরে পাঠানোর প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে পরদিন বিএসইসির চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের অবরুদ্ধ করার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় পরবর্তীতে ফৌজদারি মামলা ও পৃথক বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম, পরিচালক আবুল হাসান ও পরিচালক মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম মজুমদার। এছাড়া অতিরিক্ত পরিচালক নজরুল ইসলাম ও মোল্যা মো. মিরাজ উস সুন্নাহ এবং যুগ্ম পরিচালক রাশেদুল আলম রয়েছেন।
উপপরিচালকদের মধ্যে মো. নান্নু ভূঞা, কাজী মো. আল-ইসলাম, সহিদুল ইসলাম, বনী ইয়ামিন খান ও তৌহিদ হাসানকে অবসরে পাঠানো হয়েছে। সহকারী পরিচালক আমিনুল হক খান, আবদুল বাতেন ও সাজ্জাদ হোসেনকেও একই শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। এ ছাড়া ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আবু ইউসুফ, কাওসার পাশা বৃষ্টি ও সমীর ঘোষকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বিভাগীয় মামলার তদন্ত করে এবং অভিযুক্ত ও অভিযোগকারী উভয় পক্ষের বক্তব্য নেয়। তদন্ত শেষে মোট ২৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর ভিত্তিতেই বিএসইসি সর্বশেষ এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে।
২০২৫ সালের ৫ মার্চের ঘটনার পরদিন শেরেবাংলা নগর থানায় ১৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছিল। পাশাপাশি সরকারি বিধিবিধান অনুযায়ী বিভাগীয় মামলাও হয়। দীর্ঘ তদন্ত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে এখন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, মঙ্গলবার তাঁদের মৌখিকভাবে সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বুধবার তাঁরা আনুষ্ঠানিক চিঠি হাতে পান। চিঠি নিতে অনেক কর্মকর্তা আগারগাঁওয়ে বিএসইসির প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত হন।