সাভারে ছাত্রদল নেতার মৃত্যু, পীরগাছা থানায় লাশ নিয়ে বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক
| ফটো কার্ড
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

সাভারে পুলিশের অভিযানের সময় ছাদ থেকে পড়ে ছাত্রদল নেতা মোনারুল ইসলাম বকসীর মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর লাশ নিয়ে পীরগাছা থানার সামনে বিক্ষোভ করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। শনিবার সকালে রংপুরের পীরগাছা থানার সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মোনারুল ইসলাম বকসীর বয়স ২৯ বছর। তিনি সাভার থানা ছাত্রদলের সহসভাপতি ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে সাভারে বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) একটি আবাসিক ভবনের ছাদ থেকে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর বাবা জাফর আলী বকসী ওই প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তারক্ষী এবং মোনারুল বাবার সঙ্গে ওই ভবনের একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পীরগাছার এক কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে সাভার মডেল থানা ও পীরগাছা থানার পুলিশ মোনারুলদের ফ্ল্যাটে অভিযান চালায়। পুলিশের কাছে তথ্য ছিল, নিখোঁজ কিশোরী সেখানে অবস্থান করছেন।

পুলিশের দাবি, মোনারুলের বাবার সঙ্গে পুলিশের কথা বলার একপর্যায়ে ভবনের ছাদ থেকে ভারী কিছু পড়ার শব্দ শোনা যায়। পরে নিচে গিয়ে মোনারুলকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাটি তদন্তে পুলিশ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

শুক্রবার ময়নাতদন্ত শেষে মোনারুলের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে মরদেহ গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ হাতিবান্ধায় নেওয়া হয়। শনিবার জোহরের নামাজের পর পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।

এর আগে সকাল আটটার দিকে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স পীরগাছা থানার সামনে থামানো হয়। খবর পেয়ে প্রায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার দূর থেকে দেড় শতাধিক স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় মানুষ থানার সামনে জড়ো হন। তাঁরা মোনারুলের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিচারের দাবি জানান। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাঁদের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হলেও পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

মোনারুলের স্বজনদের অভিযোগ, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের ভাই মমদেল হোসেন বকসী দাবি করেন, নিখোঁজ কিশোরীর বাবা ও পুলিশের সদস্যদের সঙ্গে মোনারুলের ছাদে কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। একপর্যায়ে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি। পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক বলেন, মোনারুলের স্বজনেরা লাশ নিয়ে থানায় এসে সাভারে পুলিশের অভিযান ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়ে কিছু বিষয় জানতে চেয়েছিলেন। পরে তাঁরা মরদেহ নিয়ে চলে যান।

পীরগাছা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মোফাচ্ছিরুল ইসলাম বলেন, মোনারুলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে বের করে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। নিহতের ভাই মমদেল হোসেন জানান, দাফন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় তাঁরা এখনো মামলা করতে পারেননি। দ্রুত সাভার মডেল থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা।

সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম জানিয়েছেন, ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার মোনারুলের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা বা অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত