ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে মরক্কোর মুখোমুখি হওয়ার আগে প্রতিপক্ষকে নিয়ে উদ্বেগ লুকাননি কানাডার প্রধান কোচ জেসি মার্শ। তাঁর ভাষায়, মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচের প্রস্তুতি নেওয়াই যেন এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।
বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে মরক্কো। টুর্নামেন্টে এখনো কোনো ম্যাচে হারেনি আফ্রিকার দলটি। গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের সঙ্গে ড্র করার পর নকআউটের প্রথম ধাপে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে তারা। এমন ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণেই মরক্কোকে অন্যতম শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছেন মার্শ।
যদিও কানাডা এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ, তবুও শেষ ষোলোর ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে। ফলে নিজেদের সমর্থকদের পূর্ণ সমর্থন পাওয়ার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কানাডা।
বিশ্বকাপে কানাডার যাত্রাও কম নাটকীয় ছিল না। গ্রুপ পর্বে বসনিয়ার সঙ্গে ড্র, কাতারের বিপক্ষে জয় এবং সুইজারল্যান্ডের কাছে হার সত্ত্বেও তারা নকআউটে জায়গা করে নেয়। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম জয় তুলে নেয় উত্তর আমেরিকার দলটি।
চার বছর আগে ২০২২ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বেও মুখোমুখি হয়েছিল কানাডা ও মরক্কো। সেই ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল মরক্কো, যারা পরে সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছে ইতিহাস গড়েছিল। সেই দলের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় এবারও রয়েছেন স্কোয়াডে।
ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে জেসি মার্শ বলেন, মরক্কো দুর্দান্ত একটি দল এবং তাদের এড়িয়ে যেতে পারলে সেটিই ভালো হতো। তাঁর মতে, শেষ ষোলোতে ওঠাই কানাডার জন্য বড় অর্জন। এখান থেকে অতিরিক্ত যা পাওয়া যাবে, সেটি হবে দলের জন্য বাড়তি প্রাপ্তি।
এবারের বিশ্বকাপে মরক্কোর অন্যতম ভরসার নাম ইসমাইল সাইবারি, যিনি ইতোমধ্যে তিনটি গোল করেছেন। মাঝমাঠে উজ্জ্বল পারফরম্যান্স দেখাচ্ছেন আইয়ুব বুয়াদ্দি, আর গোলবারের নিচে নির্ভরতার প্রতীক ইয়াসিন বুনু। অধিনায়ক আশরাফ হাকিমির নেতৃত্বে দলটি আগের চেয়ে আরও পরিণত ও আত্মবিশ্বাসী।
অন্যদিকে কানাডার দলে আলফনসো ডেভিস সবচেয়ে পরিচিত মুখ হলেও ফরোয়ার্ড জোনাথন ডেভিড ইতোমধ্যে হ্যাটট্রিক করে নজর কেড়েছেন। পাশাপাশি স্টেফান ইউস্টাকিওও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল করে দলের সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছেন।
বিশ্রামের দিক থেকে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে কানাডা। মরক্কোর তুলনায় এক দিন বেশি বিশ্রাম পেয়েছে তারা। এছাড়া নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ১২০ মিনিটের লড়াই ও টাইব্রেকারের শারীরিক-মানসিক চাপ নিয়েই মাঠে নামবে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
সব দিক বিবেচনায় মরক্কোকেই ম্যাচের ফেবারিট ধরা হলেও, নকআউট পর্বে কানাডা চমক দেখালে সেটিকে অপ্রত্যাশিত বলা যাবে না।