‘ফিফা জালিয়াতির দরজা খুলে দিয়েছে’, অভিযোগ কাউন্সিল অব ইউরোপের

স্পোর্টস ডেস্ক
| ফটো কার্ড
 ছবি: রয়টার্স
ছবি: রয়টার্স

বিশ্বকাপ ফাইনালের উত্তেজনার মধ্যেই ফিফার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে ইউরোপের মানবাধিকার ও আইনবিষয়ক সংস্থা কাউন্সিল অব ইউরোপ। সংস্থাটির দাবি, সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমের মাধ্যমে ফুটবলে জালিয়াতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের ঝুঁকি বাড়িয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

রোববার প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে কাউন্সিল অব ইউরোপের মহাসচিব আলাঁ বেরসে বলেন, ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের আগে ফুটবলে একটি শক্তিশালী ‘সততা ও স্বচ্ছতা কাঠামো’ গড়ে তোলা জরুরি। তাঁর ভাষায়, ফিফা বর্তমানে অর্থ ও ক্ষমতার সংকটে নিমজ্জিত।

চিঠিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের ঘটনার সমালোচনা করেন। পাশাপাশি ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পেকে নিয়ে প্যারাগুয়ের এক সিনেটরের বর্ণবাদী মন্তব্য এবং স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাখয়ের রাজনৈতিক বক্তব্যেরও সমালোচনা জানান।

আলাঁ বেরসে বলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপে একের পর এক ঘটনা ফুটবলের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাঁর মতে, চাপের মুখে শাস্তি স্থগিত করা, রেফারির কর্তৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করা, খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী মন্তব্য এবং ম্যাচের বিভিন্ন মুহূর্তকে ঘিরে জুয়া বৈধ করার মতো বিষয়গুলো উদ্বেগজনক।

তিনি আরও বলেন, ম্যাচের শুধু ফল নয়, নির্দিষ্ট সময়ে কোনো খেলোয়াড় কতটি পাস দেবেন, ফাউল করবেন বা কর্নার আদায় করবেন—এসব নিয়েও এখন বাজির সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে খেলাধুলার সততা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং এটি প্রাতিষ্ঠানিক জালিয়াতির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

চিঠিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথোপকথনের পর ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নির্দেশে ফোলারিন বালোগানের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হয়েছে—এমন অভিযোগও উল্লেখ করা হয়। আলাঁ বেরসে বলেন, নিয়ম যদি চাপের মুখে বদলে যায়, তাহলে মাঠের ফলাফল নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

তবে ফিফা বরাবরই দাবি করে আসছে, বালোগানের শাস্তি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত স্বাধীন শৃঙ্খলা কমিটি নিয়ম অনুসারেই নিয়েছে এবং এতে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব ছিল না।

এদিকে, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ৭২ জন সদস্য ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ২৭টি দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কাছে চিঠি দিয়ে বালোগান ইস্যুতে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নিরপেক্ষতা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এর আগে গত জুনে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আরও ৫০ জন সদস্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ দেওয়ার সমালোচনা করেছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে খেলাধুলায় মানবাধিকার, সুশাসন ও সততা জোরদারের লক্ষ্যে ফিফা ও কাউন্সিল অব ইউরোপের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়, যা এখনো কার্যকর রয়েছে।

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত