ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহায়তা চেয়েছেন—এমন দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট। তবে এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমটির দাবি, ফিফার বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রিকে ঘিরে সমালোচনার মুখে পড়া ইনফান্তিনো যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে পরে যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডিলান জনসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, রুবিওর সঙ্গে ইনফান্তিনোর কোনো আলোচনার পরিকল্পনা নেই। একই সঙ্গে তিনি প্রতিবেদনের তথ্য যাচাই নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
সম্প্রতি বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বিক্রির পরিকল্পনা করেছিলেন ইনফান্তিনো। ওই পরিকল্পনার সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই জোশুয়া কুশনারের প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার খবর প্রকাশের পর বিষয়টি ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।
উয়েফা, এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) এবং কনক্যাকাফসহ কয়েকটি আঞ্চলিক ফুটবল সংস্থা এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করে। সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করা হয়। তবে এর পরও ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফা এবং ওয়েলস ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ভবিষ্যতে ইনফান্তিনোকে সমর্থন না দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পরিকল্পনা বাতিল হওয়ার পর ইনফান্তিনো একাধিকবার ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সফল হননি এবং সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর কারণে তিনি নিজেকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে বিচ্ছিন্ন মনে করছেন।
এদিকে এ বিষয়ে ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। হোয়াইট হাউসও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া না দিলেও পরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে রুবিওর সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার খবর অস্বীকার করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, বাণিজ্যিক স্বত্ব বিতর্কের প্রভাব ২০২৭-২০৩১ মেয়াদের ফিফা সভাপতি নির্বাচনে ইনফান্তিনোর সম্ভাবনার ওপরও পড়তে পারে। বর্তমানে তার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে জল্পনা বাড়ছে।