বিশ্ব ফুটবলে প্রায় সব বড় অর্জনই নিজের করে নিয়েছেন লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, একাধিক ব্যালন ডি’অর, গোল্ডেন বল—সবই রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। তবে বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন বুট এখনও অধরা।
২০২৬ বিশ্বকাপে সেই আক্ষেপ ঘোচানোর সুযোগ থাকলেও ফাইনালের আগে কঠিন সমীকরণের মুখে পড়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে উঠে গেছেন।
বর্তমানে এমবাপ্পের গোল ১০টি, আর স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালের আগে মেসির গোলসংখ্যা ৮।
বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত ১টায় নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচেই গোল্ডেন বুট জয়ের শেষ সুযোগ মেসির সামনে।
তবে কাজটি মোটেও সহজ নয়। কারণ, ফাইনালে দুটি গোল করলেও এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে যেতে পারবেন না মেসি। সেক্ষেত্রে দুজনেরই গোল হবে ১০টি। অ্যাসিস্টও সমান থাকবে—চারটি করে।
গোল ও অ্যাসিস্ট সমান হলে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, কম সময় মাঠে খেলা ফুটবলারই এগিয়ে থাকেন। এমবাপ্পে এখন পর্যন্ত খেলেছেন ৭৬৯ মিনিট, আর মেসির খেলা ৭১২ মিনিট। ফলে ফাইনালে ৫৮ মিনিট বা তার বেশি খেললে মোট সময়ের হিসাবে এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে যাবেন মেসি। তখন টাইব্রেকেও সুবিধা থাকবে না তাঁর।
সব মিলিয়ে গোল্ডেন বুট জিততে মেসির সামনে তিনটি সম্ভাব্য পথ রয়েছে—
- হ্যাটট্রিক করা: স্পেনের বিপক্ষে তিন গোল করলে তাঁর মোট গোল হবে ১১টি, যা এমবাপ্পের ১০ গোলকে ছাড়িয়ে যাবে।
- দুই গোলের সঙ্গে অন্তত একটি অ্যাসিস্ট করা: এতে মেসির গোল হবে ১০টি এবং অ্যাসিস্ট দাঁড়াবে ৫টি। অ্যাসিস্টে এগিয়ে থাকায় গোল্ডেন বুট জিতবেন তিনি।
- ৫৭ মিনিটের মধ্যেই দুই গোল করে মাঠ ছাড়তে হবে: সেক্ষেত্রে গোল ও অ্যাসিস্ট সমান থাকলেও এমবাপ্পের তুলনায় কম সময় মাঠে খেলার কারণে গোল্ডেন বুট জিততে পারবেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
বিশ্বকাপের শিরোপার পাশাপাশি তাই ফাইনালের ম্যাচটি মেসির জন্য ব্যক্তিগত ইতিহাস গড়ারও বড় এক মঞ্চ। তাঁর সামনে সুযোগ রয়েছে ক্যারিয়ারের একমাত্র অপূর্ণ অর্জনটিও পূরণ করার।