সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে অবস্থান করে রাজনৈতিক তৎপরতা চালানোর সুযোগ দিলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ভারত একদিকে ‘হাসিনা কার্ড’ ব্যবহার করবে, অন্যদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাইবে—এ দুটি অবস্থান পরস্পরবিরোধী।
শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল ও ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক নির্ভরতা, সমতা ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য ও বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেওয়া হলে বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
আলোচনা সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাই গণ–অভ্যুত্থানকে শুধু ৩৬ দিনের আন্দোলন হিসেবে দেখার সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, এই আন্দোলনের পেছনে দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক ত্যাগ ও আন্দোলনের ইতিহাস রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষার্থীদের সহিংসতা এড়িয়ে গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর নয়। তিনি আন্দোলনে বিএনপি ও ছাত্রদলের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন এবং রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কারের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতৃত্বের মানসিকতার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, আগের সরকারের সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে মতপ্রকাশ ও মুক্তবুদ্ধির চর্চা বাধাগ্রস্ত করা হয়েছিল। আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকেরাও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে রাজপথে ভূমিকা রেখেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।