সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটিতে অংশ না নেওয়ায় সংসদের ১৩টি স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ বিরোধী দলের সদস্যরা নাও পেতে পারেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া সংসদের তৃতীয় অধিবেশনেই বাকি সংসদীয় কমিটিগুলো গঠনের কাজ শেষ করার কথা রয়েছে।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, বিরোধী দল কমিটির সভাপতির পদ পাওয়ার ক্ষেত্রে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। সংসদীয় কমিটি গঠনে আগের অধিবেশনগুলোর রীতি অনুসরণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
তবে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের দাবি, জুলাই সনদ অনুযায়ী বিরোধী দলের সদস্যদের স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ দেওয়ার কথা থাকলেও এর সঙ্গে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশগ্রহণের শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে বর্তমান পরিস্থিতিতে ওই কমিটিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানান তিনি।
জুলাই সনদের সুপারিশ অনুযায়ী, সরকারি হিসাব, বিশেষ অধিকার, অনুমিত হিসাব ও সরকারি প্রতিষ্ঠান—এই চারটি কমিটির সভাপতির দায়িত্ব বিরোধী দলের সদস্যদের দেওয়ার কথা। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদও সংসদে বিরোধী দলের আসনসংখ্যার অনুপাতে দেওয়ার কথা রয়েছে।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম তিন অধিবেশনের মধ্যে মোট ৫০টি সংসদীয় কমিটি গঠনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এরই মধ্যে ১৫টি কমিটি গঠন হয়েছে। বাকি ৩৫টি কমিটি তৃতীয় অধিবেশনেই গঠন করতে হবে।
চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, সংসদীয় কমিটি গঠনে শর্তারোপের অভিযোগ সঠিক নয়। অতীতে যেভাবে কমিটি গঠন করা হয়েছে, এবারও সেই রীতিই অনুসরণ করা হবে। তাঁর মতে, জুলাই সনদ কার্যকর হওয়ার পর সেটি অনুযায়ী কমিটি গঠনের বিষয়টি সামনে আসবে।
এদিকে তৃতীয় অধিবেশনটি তুলনামূলক সংক্ষিপ্ত হতে পারে। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে অধিবেশনটি ডাকা হয়েছে। অধিবেশনের মেয়াদ ও কার্যক্রম কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে, চলমান বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সার সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ে সংসদে সরব হওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে বিরোধী দল। এসব বিষয়ে সংসদে নোটিশ দেওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়েও নিজেদের আপত্তি তুলে ধরার প্রস্তুতি রয়েছে তাদের।