প্রাণিসম্পদ পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে স্থানীয় পর্যায়ে ছোট আকারের প্যাকেজিং ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, উৎপাদনের পর সঠিকভাবে সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের সুযোগ না থাকায় অনেক সময় খামারিরা তাদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন।
বুধবার উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে মানিকগঞ্জ, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের চরাঞ্চলের প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, উৎপাদিত পণ্য কীভাবে প্যাকেজিং, প্রক্রিয়াজাত ও বাজারজাত করা হবে, সে বিষয়েও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী স্থানীয় পর্যায়ে ছোট আকারের প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপনে সরকার সহায়তা করবে।
কৃষকদের কৃষি উপকরণ সরবরাহের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরির কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা সরবরাহে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তা সহ্য করা হবে না। কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী সময়মতো সার, বীজসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করবে।
তিনি আরও বলেন, কৃষি খাতে সঠিক পরিকল্পনার জন্য কোন এলাকায় কী পরিমাণ ফসল উৎপাদন হচ্ছে, কতটুকু সার ও বীজ প্রয়োজন এবং উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা কত—এসব তথ্য সরকারের কাছে থাকা জরুরি। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে এসব তথ্য সংরক্ষণ করা গেলে কৃষি উপকরণ বিতরণ আরও সুশৃঙ্খল করা সম্ভব হবে।
মন্ত্রী বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে যুক্ত। মাছ, গবাদিপশু, দুধ কিংবা অন্যান্য কৃষিপণ্য উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত সবাই কৃষি অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
অনুষ্ঠান শেষে ২৫ জন প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে ২৫টি বকনা গরু ও প্রয়োজনীয় প্রাণিখাদ্য বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি ১০০ জন কৃষক-কৃষাণীর মধ্যে ৫০০টি উন্নত জাতের গাছের চারা দেওয়া হয়। পরে মন্ত্রী ফুলদী নদীর খালে ২৮৬ কেজি রুইজাতীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।