সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের মাধ্যমে ভিন্নমত ও বাক্স্বাধীনতা দমনের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, আইন সংশোধন করে রাজনীতিক ও সাংবাদিকদের ওপর নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে এর নেতিবাচক পরিণতি হতে পারে।
সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬: নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ নাকি বাক্স্বাধীনতা দমন?’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতের তথ্য ও সম্প্রচার বিভাগ এ সেমিনারের আয়োজন করে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, চার-পাঁচ মাসের মধ্যে সাইবার আইন সংশোধনের প্রয়োজন কেন তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সরকার ইচ্ছামতো আইন পরিবর্তন করলে জনগণের মতামতের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হতে পারে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রধান রফিকুজ্জামান রুমান। প্রবন্ধে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রণীত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিভিন্ন ধারায় শেখ মুজিবুর রহমানকে অবমাননা, মানহানি ও হেয়প্রতিপন্ন করার বিষয়গুলো শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত ছিল। পরে সমালোচনার মুখে ২০২৩ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করে সাইবার নিরাপত্তা আইন করা হয়।
প্রবন্ধে আরও দাবি করা হয়, ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ জারি করে, যা পরবর্তী সময়ে আইনে রূপান্তরিত হয়। এখন কয়েক মাসের মধ্যে আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রবন্ধে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়, মানহানি ও হেয়প্রতিপন্ন করার মতো বিষয়কে আবারও শাস্তিযোগ্য অপরাধের আওতায় আনা হলে হয়রানি ও নিপীড়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
আইনের সংশোধনী খসড়ায় রাষ্ট্রের মানহানি হলে কনটেন্ট ব্লক করার ক্ষমতা দেওয়ার বিষয় নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয় সেমিনারে। বক্তাদের দাবি, ‘রাষ্ট্রের মানহানি’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে, তা স্পষ্ট না হলে সরকারের সমালোচনামূলক বক্তব্য বা কনটেন্টের বিরুদ্ধেও আইনটি প্রয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এ ছাড়া খসড়ায় মানহানি, হেয়প্রতিপন্ন, গুজব, অপতথ্য ও বুলিংয়ের সংজ্ঞা স্পষ্ট নয় বলে দাবি করা হয়। জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়, এসব পরিভাষার ব্যাখ্যা অস্পষ্ট থাকলে আইনের অপব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে এবং এর প্রভাব সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর পড়তে পারে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বিদ্যমান আইন বহাল রাখার দাবি জানিয়ে বলেন, সাইবার আইনের বিভিন্ন পরিভাষার ব্যাখ্যা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, আইন কীভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কর্তৃপক্ষ আইনকে অপব্যাখ্যা বা অপপ্রয়োগ করলে নিরপরাধ ব্যক্তিও হয়রানির শিকার হতে পারেন বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, নির্বাহী পরিষদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও নাজমুন্নাহার নীলু, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলামসহ সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধিরা।