জনস্বার্থের বিরুদ্ধে গেলে দায় সরকারেরই: মাহমুদুর রহমান মান্না
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সফলতা তিনি কামনা করেন। তবে জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তার দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, সরকারের ভুলত্রুটি নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা অব্যাহত থাকবে।
রোববার রাজধানীর তোপখানা রোডে ‘সাইফুল হক: যে জীবন মানুষের তরে’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের ৭০তম জন্মদিন উপলক্ষে কালের দাবি প্রকাশনা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
মান্না বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে এবং জনগণের সরকার হিসেবে দেশের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। তবে জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিলে তার দায় সরকারের ওপরই বর্তাবে।
তিনি বলেন, পাঁচ মাস কোনো সরকারের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের জন্য যথেষ্ট সময় নয়। তবে সরকারের কর্মকাণ্ড দেখে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। তাই কোথায় ভুল হচ্ছে বা ভুলের সম্ভাবনা রয়েছে, তা আলোচনা ও সমালোচনার মাধ্যমে তুলে ধরা প্রয়োজন।
'নতুন ফ্যাসিবাদ যেন তৈরি না হয়'
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, এটি বিশ্বের ইতিহাসে বিরল একটি ঘটনা। তবে শুধু অতীতের ফ্যাসিবাদ নিয়ে নয়, ভবিষ্যতে নতুন কোনো ফ্যাসিবাদ যাতে জন্ম নিতে না পারে, সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, "ওপার থেকে কেউ ফিরে এলেই ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে—বিষয়টি এমন নয়। আমাদের ভেতর থেকেও নতুন ফ্যাসিবাদের জন্ম হতে পারে। তাই এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে, যেখানে কোনোভাবেই স্বৈরতন্ত্রের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।"
স্বাধীন বিচারব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব
মান্না অভিযোগ করেন, জুলাই সনদে বিচার বিভাগকে নির্বাহী ও আইন বিভাগ থেকে পৃথক ও স্বাধীন করার যে অঙ্গীকার ছিল, তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। তাঁর মতে, এটি গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগের বিষয়।
সাইফুল হককে নিয়ে বক্তব্য
সাইফুল হক সম্পর্কে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, তিনি একজন সৎ, নির্ভেজাল ও সত্যনিষ্ঠ রাজনৈতিক কর্মী। সত্য বলার সাহস এবং নীতির প্রশ্নে দৃঢ় অবস্থানের জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত।
অন্য বক্তাদের বক্তব্য
অনুষ্ঠানে গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যে রাজনৈতিক ঐক্য তৈরি হয়েছিল, সেটি ভবিষ্যতেও অটুট রাখা প্রয়োজন।
অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সাইফুল হককে শান্ত, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও সংগঠিত একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে দেখে আসছেন।
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবু সাঈদ খান বলেন, দেশে বৈষম্য দূর করতে সম্পদের ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, সামাজিক পরিবর্তনের জন্য বামপন্থী রাজনীতির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
রাষ্ট্রপতি নিয়ে মত সাইফুল হকের
অনুষ্ঠানে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে সাইফুল হক বলেন, জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে সরকার আগামী সেপ্টেম্বরের সংসদ অধিবেশনে সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী পাস করবে বলে তিনি আশা করেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক বা বেসামরিক আমলার পরিবর্তে সততা, দেশপ্রেম ও নৈতিক অবস্থানসম্পন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিকেই রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখতে চান।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা ‘সাইফুল হক: যে জীবন মানুষের তরে’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন। পরে সাইফুল হকের ৭০তম জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটা হয় এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁকে শুভেচ্ছা জানানো হয়।