সরকারের সঙ্গে যাতে দল হারিয়ে না যায়, নেতাদের নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
| ফটো কার্ড
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

সরকারের সঙ্গে কোনোভাবেই দলের স্বাতন্ত্র্য যেন হারিয়ে না যায়, সে বিষয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একটি রাজনৈতিক দলের কাজ হলো সরকারকে সহায়তা করা এবং সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগ জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া। তবে দল যদি সরকারের সঙ্গে একাকার হয়ে যায়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সরকারও, দলও।

শনিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে জয়পুরহাট ও নওগাঁ জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সাংগঠনিক বৈঠকে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।

বৈঠকে দলের সাংগঠনিক অবস্থা, তৃণমূলের কোন্দল, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত এক নেতার বরাতে জানা যায়, তারেক রহমান শুরুতে স্থানীয় নেতাদের কাছ থেকে সাংগঠনিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। এরপর তিনি বলেন, দলের অস্তিত্ব ও শক্তি ধরে রাখতে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র রক্ষা, জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং নীতি-আদর্শের প্রতি অটল থাকা জরুরি। ক্ষমতার মোহে আদর্শ বিসর্জন দিলে দল তার ভিত্তি হারাতে পারে।

তিনি বলেন, একটি সফল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দল ও সরকারকে আলাদা ভূমিকা পালন করতে হয়। দল যদি সরকারকে নিয়ন্ত্রণ বা গ্রাস করার চেষ্টা করে, তাহলে সরকার যেমন দুর্বল হয়, তেমনি দলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

নেতাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দল ও সরকারের সম্পর্ক হওয়া উচিত রেললাইনের মতো—দুটি পাশাপাশি চলবে, কিন্তু একে অপরের সঙ্গে মিশে যাবে না। এমন চর্চা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে এবং দলকে দীর্ঘমেয়াদে সুসংগঠিত রাখে।

বৈঠকে নেতারা অভিযোগ করেন, সরকার গঠনের পর কিছু সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি দলের পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ হাট-বাজার, বাসস্ট্যান্ড ও ঘাট দখল, তদবির, টেন্ডার এবং নিয়োগ-বদলি বাণিজ্যে জড়িয়ে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন।

এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম ও ত্যাগের মাধ্যমে জনগণের রায়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। তাই দলের কোনো নেতা বা কর্মী অপকর্মে জড়ালে দল তার দায় নেবে না। বরং তাৎক্ষণিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি প্রয়োজন হলে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি যোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থী বাছাইয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রার্থী নির্বাচনে জনপ্রিয়তাকে প্রধান মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, প্রথমে থানা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা প্রার্থী নির্ধারণের চেষ্টা করবেন। সেখানে সমাধান না হলে জেলা, পরে বিভাগীয় পর্যায়ে বিষয়টি যাবে। প্রয়োজন হলে কেন্দ্র থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অতীতের অনিয়ম ও কারচুপির পুনরাবৃত্তি হবে না। জনগণের মতামতের প্রতিফলন নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শুধু দলীয় সমর্থন পেলেই কেউ নির্বাচিত হবেন—এমন ধারণা থেকে সবাইকে বেরিয়ে আসতে হবে।

তৃণমূল পর্যায়ের বিভেদ দূর করারও নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ কোন্দল থাকলে রাজনৈতিক বা নির্বাচনী কোনো ক্ষেত্রেই সফলতা অর্জন সম্ভব নয়। ঐক্যবদ্ধভাবে সংগঠনকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন তিনি।

একই সঙ্গে নেতাকর্মীদের জনগণের দোরগোড়ায় গিয়ে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি তুলে ধরার আহ্বান জানান। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন কর্মসূচিসহ জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশনা দেন।

জয়পুরহাট জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মাসুদ রানা প্রধান জানান, বৈঠকে মূলত দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং সরকারের উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত