বিএনপি সরকারের মধ্যে অতীতের ফ্যাসিস্ট সরকারের আচরণের পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী মত দমন, অপপ্রচার ও বলপ্রয়োগের যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা আগের সরকারের কর্মকাণ্ডের প্রতিচ্ছবি।
রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে লেবার পার্টি আয়োজিত ‘জান দিব, জুলাই দিব না’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি অতীতে নির্যাতনের শিকার হলেও এখন তাদের আচরণে সেই অভিজ্ঞতার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। তাঁর ভাষায়, “নতুন কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। তখনকার ফ্যাসিস্টরা যা করেছে, হুবহু তার একটি ফটোকপি আপনাদের মধ্যে দেখতে পাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিএনপির যে ত্যাগ ছিল, দলটি তা ভুলে গিয়ে একই ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি অনুসরণ করছে। বিরোধী মত দমনে ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার ও বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে তিনি প্রশ্ন রাখেন, “আপনারাও তো আমাদের মতোই মজলুম ছিলেন, তাহলে এখন কেন জালিম হতে যাচ্ছেন?”
নির্বাচন কমিশনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে প্রশাসনে নিয়োগ দেওয়া হলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
হবিগঞ্জে কিশোর আলিফ হোসেনের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, সহিংসতার পুনরাবৃত্তি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় সংস্কারের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সরকারকে ব্যর্থ বলে মন্তব্য করেন। তিনি গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, লোডশেডিং এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক হামলার সমালোচনা করে বলেন, রাজনৈতিক চাপের মুখেও তারা অবস্থান থেকে সরে যাবেন না।
সভাপতির বক্তব্যে লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান গণভোটের ফল বাস্তবায়নের দাবি জানান। তিনি বলেন, ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের চেতনার আলোকে কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রীয় পরিবর্তন এখনো সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হয়নি।
সভায় আরও বক্তব্য দেন বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মূসা বিন ইযহার, জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, জাগপার সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।