জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনাগুলোর তদন্ত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
রোববার যাত্রাবাড়ীর নবী টাওয়ারে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের নিয়ে আয়োজিত গণশুনানিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয় এ গণশুনানির আয়োজন করে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর মধ্যে যাত্রাবাড়ীর ঘটনাও রয়েছে। এসব মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে বিচার সম্পন্ন করতে ট্রাইব্যুনাল কাজ করছে।
তিনি সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের থানায় সংরক্ষিত তদন্ত-সংক্রান্ত প্রতিবেদন দ্রুত ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাছে হস্তান্তরের নির্দেশনা দেন, যাতে একই সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া যায়।
গণশুনানিতে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত ব্যক্তিরা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে দ্রুত বিচার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। বক্তব্য দিতে গিয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
শহীদ পারভেজের মা কানিজ ফাতেমা বলেন, সন্তানের হত্যার বিচারই তাঁর একমাত্র দাবি। শহীদ শাহাদাত হোসেন শাওনের বাবা মো. বাসির আলম বলেন, সন্তানের লাশ কাঁধে বহনের মতো কষ্ট আর কিছু নেই এবং হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
একই দাবি জানান শহীদ সোহেল রানার মা রাশেদা বেগম ও শহীদ শাকিবের মা হেলেনা। তারা সব শহীদ পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে আমিনুল ইসলাম বলেন, হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। প্রত্যেক শহীদ ও আহত পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ট্রাইব্যুনাল আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
তিনি যাদের কাছে ভিডিও ফুটেজ, ছবি বা অন্য কোনো তথ্য-প্রমাণ রয়েছে, সেগুলো তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে জমা দেওয়ার আহ্বান জানান।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও ভিডিও ফুটেজ ইতোমধ্যে একাধিক মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে আবু সাঈদ হত্যা মামলার তদন্তে একটি টেলিভিশন চ্যানেলের ভিডিও ফুটেজ বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে সহায়ক হয়েছে।
তিনি গণমাধ্যমকর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীদেরও জুলাই হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাছে জমা দেওয়ার আহ্বান জানান।
গণশুনানিতে ঢাকা-৫ আসনে বিএনপির প্রধান সমন্বয়ক নবীউল্লাহ নবী, যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাজুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।