রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েও ভোট দিলেন ইসলামী আন্দোলনের এমপি

সহযাত্রী নিউজ ডেস্কঃ
| ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। তবে ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ভোট দিয়েছেন দলটির একমাত্র সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয় ইসলামী আন্দোলন। পরে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দলীয় আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অলিউল্লাহ নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন।

ইসলামী আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করিম মারুফ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দলটির এমপি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলটির মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান জানিয়েছিলেন, জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে যে ঐকমত্য হয়েছিল, সেখান থেকে সরে আসার কারণে তারা নির্বাচনে ভোট দেবেন না।

বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে দেশের রাজনৈতিক সংকটের অন্যতম কারণ দলীয় রাষ্ট্রপতি ব্যবস্থা। এই সংকট নিরসনে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে কয়েকটি বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল। ইসলামী আন্দোলনের প্রত্যাশা ছিল, জুলাই সনদে সম্মত নীতির ভিত্তিতেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা নির্বাচনে ভোট দেওয়াকে সমীচীন মনে করেনি।

ইসলামী আন্দোলনের বিবৃতিতে জুলাই সনদের ধারা-১০-এর উল্লেখ করে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি আইনসভার উভয় কক্ষের সদস্যদের গোপন ভোটে নির্বাচিত হওয়ার কথা ছিল। এ বিষয়ে বিএনপিসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো একমত হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।

এ ছাড়া ধারা-২৮-এর কথা উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, অর্থ বিল ও আস্থা ভোট ছাড়া অন্য সব বিষয়ে সংসদ সদস্যদের দলের বিপক্ষে স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকার কথা ছিল। দলটির দাবি, এই দুই সিদ্ধান্তের কোনোটিই মানা হচ্ছে না।

বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এ ঘটনাকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে ‘গাদ্দারি’ বলে মন্তব্য করে।

তবে দলীয় বিবৃতিতে বর্জনের ঘোষণা দেওয়ার পরও শেষ পর্যন্ত দলটির একমাত্র এমপি অলিউল্লাহ ভোট দেওয়ায় ইসলামী আন্দোলনের অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। দলের প্রচার সম্পাদক অবশ্য জানিয়েছেন, দলীয় আমিরের সিদ্ধান্তেই তিনি ভোট দিতে গিয়েছেন।

বিবৃতি ও ভোট দেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান ও সংসদ সদস্য অলিউল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত