ভারতে আশ্রয়ে থাকলেও রাজনীতি করতে পারবেন না শেখ হাসিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
| ফটো কার্ড
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

শেখ হাসিনাকে ভারতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অনুমতি দেওয়া হয়নি

ভারতে আশ্রয়ে থাকলেও শেখ হাসিনাকে সেখান থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে ভারতের সংসদীয় কমিটির এক প্রতিবেদনে।

‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি বৃহস্পতিবার ভারতের লোকসভা ও রাজ্যসভায় উপস্থাপন করা হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবেদন প্রণয়নকারী সংসদীয় কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন কংগ্রেসের সংসদ সদস্য শশী থারুর।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানবিক বিবেচনা ও ভারতের দীর্ঘদিনের আশ্রয়নীতির অংশ হিসেবে শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি ভারত থেকে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবেন না।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধ প্রসঙ্গেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ভারতের সরকার বিষয়টি প্রচলিত আইন ও প্রতিষ্ঠিত নীতিমালার আলোকে বিবেচনা করছে।

এদিকে, বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় ভিসা ইস্যু নিয়েও পর্যবেক্ষণ দিয়েছে সংসদীয় কমিটি। ভিসা প্রদান কমে যাওয়ায় জনমনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবং দুই দেশের সম্পর্কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। গত ২৮ জুন থেকে ভারত বাংলাদেশিদের জন্য পুনরায় পর্যটন ভিসা চালু করেছে।

প্রতিবেদনে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানিচুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চলতি বছর চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নবায়ন প্রক্রিয়া শুরু করতে ভারত সরকারকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং সীমান্তসংলগ্ন অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংসদীয় কমিটি। বিশেষ করে ভারত সীমান্তের কাছাকাছি চীনের সহায়তায় লালমনিরহাট বিমানঘাঁটির উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ভারত ‘পরিমিত ও হিসাবনিকাশ ভিত্তিক অ-হস্তক্ষেপ নীতি’ অনুসরণ করেছে। পাশাপাশি চলতি বছরের নির্বাচনের পর দুই দেশের সম্পর্ক ইতিবাচক ধারায় এগোচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত