রাজনৈতিক ঐকমত্যে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের দাবি নুরুল হক নুরের
প্রয়োজনে রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।
বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কুষ্টিয়ায় জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা সোহানুর রহমানকে দেখতে যান নুরুল হক নুর। পরে হাসপাতালের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
নুরুল হক নুর বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে জামায়াত-শিবিরের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল, পরে অন্তর্বর্তী সরকার সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। এখন নির্বাচিত সরকারকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে হবে। প্রয়োজনে রাজনৈতিক ঐকমত্যের মাধ্যমে জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যার দায়ে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে নুরুল হক দাবি করেন, ১৯৭১ সালের গণহত্যা, লুটপাট ও ধর্ষণের জন্য জামায়াত-শিবিরেরও নিষিদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। তার আশঙ্কা, সংগঠন দুটিকে নিষিদ্ধ না করলে দেশে উগ্রবাদ বাড়তে পারে এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
নুরুল হক আরও দাবি করেন, জাতিসংঘের পক্ষ থেকে আল-কায়েদার বাংলাদেশকে লক্ষ্যবস্তু করার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে এবং জামায়াত-শিবিরের মাধ্যমে এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সংগঠনটি অস্ত্র পরিচালনায় সক্ষম ক্যাডার তৈরি করে।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জামায়াত-শিবির নিজেদের মজলুম হিসেবে উপস্থাপন করলেও গত ছয় মাসে তাদের কর্মকাণ্ডে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। তার ভাষায়, উগ্রবাদী এই গোষ্ঠীকে এখন থেকেই প্রতিরোধ করা প্রয়োজন; অন্যথায় তারা সমাজে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
জামায়াত-শিবির ও আওয়ামী লীগকে একই ধরনের ফ্যাসিস্ট সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করে নুরুল হক বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতার সুযোগ পেয়ে ফ্যাসিস্ট হয়েছে। অন্যদিকে জামায়াত-শিবির ক্ষমতায় না থেকেও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের অতীতের বিতর্কিত ইতিহাস সামনে এনেছে বলে তিনি দাবি করেন।
জামায়াত বর্তমান সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি। ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে দলটির লোকজনকে শেয়ার দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে তিনি দাবি করেন। তার মতে, এর মাধ্যমে জামায়াত মূলত ক্ষমতার ভাগ চায় এবং তাদের এ ধরনের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।
এ ছাড়া ওয়াজ ও জুমার খুতবায় আমির হামজার বক্তব্য নিয়েও সমালোচনা করেন নুরুল হক। এসব বক্তব্যে বিদ্বেষ, বিভাজন বা কুরুচিপূর্ণ বিষয় থাকলে জনগণকে তা প্রতিহত করার আহ্বান জানান তিনি।
আমির হামজার পক্ষে জামায়াতের দেওয়া বিবৃতির সমালোচনা করে নুরুল হক বলেন, এর মাধ্যমে দলটি তার বক্তব্যকে সমর্থন করছে বলে প্রতীয়মান হয়। আমির হামজা, সাতক্ষীরার সংসদ সদস্য নজরুল ইসলামসহ জামায়াতের নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি দলটির নৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর নাম থেকে ‘ইসলাম’ শব্দটি বাদ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।