জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য জোটের ঢাকা-রংপুর লংমার্চে আট দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। এসব দাবি পূরণ না হলে তা এক দফার আন্দোলনে রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জোটের প্রধান ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে লংমার্চ শুরু হয়। দিনভর গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধায় পথসভা শেষে রাতে রংপুরে সমাপনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হয়।
উদ্বোধনী সমাবেশে শফিকুর রহমান বলেন, জোটের দাবিগুলো জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট। সরকার এসব দাবি মেনে না নিলে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে যেতে পারে এবং আট দফা এক দফায় পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি সরকারকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে দাবিগুলো বিবেচনার আহ্বান জানান।
জোটের ঘোষিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার, বিদ্যুৎ-গ্যাস-জ্বালানি ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, প্রশাসনে দলীয়করণ বন্ধ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন।
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের সমাবেশে জোটের নেতারা সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করেন। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ কয়েকজন নেতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানান এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন। অন্য নেতারাও সরকারের কাছে জোটের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
লংমার্চের পথে গাজীপুরের ভোগড়া, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল, বগুড়ার মাটিডালি ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এসব কর্মসূচিতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি জোটের কেন্দ্রীয় নেতারাও বক্তব্য দেন।
রংপুরের সমাপনী সমাবেশে শফিকুর রহমান বলেন, সরকারকে জনগণের দাবির প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি জানান, দাবিগুলো বাস্তবায়নে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জোট পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
১১ দলীয় জোট এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের কর্মসূচি পালন করেছিল। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা-রংপুর লংমার্চের পর আরও কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনাও জোটটি ঘোষণা করেছে।