ঢাকা উত্তরে আসিফ, দক্ষিণে নাসীরকে মেয়র প্রার্থী করল এনসিপি

সহযাত্রী নিউজ ডেস্কঃ
| ফটো কার্ড
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) দলের মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রার্থী করা হয়েছে।

রোববার বিকেলে রাজধানীর বাংলা মোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সমন্বয় সভায় দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। পরে সন্ধ্যায় সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানায় দলটি।

সভায় দুই সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়েও আলোচনা হয়। সম্ভাব্য প্রার্থী খোঁজা, ওয়ার্ডভিত্তিক নাগরিক সমস্যা চিহ্নিত করা এবং জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার বিষয়ে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সতর্ক থাকার কথাও বলা হয়েছে।

এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর আসিফ মাহমুদ ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজেদের ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেন। নাসীর উত্তর সিটি করপোরেশনের ভোটার এলাকা থেকে দক্ষিণের ২১ নম্বর ওয়ার্ডে এবং আসিফ দক্ষিণের ভোটার এলাকা থেকে উত্তরের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার হন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন এলাকার ভোটার হওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ কারণেই তাঁরা ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন বলে জানিয়েছেন।

এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দলের বিভিন্ন জরিপে উত্তরে আসিফ মাহমুদ এবং দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অবস্থান তুলনামূলকভাবে ভালো পাওয়া গেছে। সেই বিবেচনায় দুই সিটিতে তাঁদের প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত মার্চে এনসিপি জানিয়েছিল, স্থানীয় নির্বাচনে কোনো জোট ছাড়াই এককভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। তখন ঢাকা উত্তরে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব এবং দক্ষিণে আসিফ মাহমুদের প্রার্থী হওয়ার কথা বলা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে দলটি সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী গত জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ওই নির্বাচনে মির্জা আব্বাস ৫৯ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হন, আর নাসীর পান প্রায় ৫৪ হাজার ভোট।

অন্যদিকে জাতীয় নির্বাচনের আগে আসিফ মাহমুদ নিজের নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেননি। পরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

এদিকে স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে জামায়াতে ইসলামীও নিজেদের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে। দলটি জানিয়েছে, স্থানীয় নির্বাচনে কেন্দ্রীয়ভাবে ১১ দলীয় জোটের মতো কোনো সমন্বিত জোট থাকবে না। তবে স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সমঝোতা হতে পারে।

ঢাকা উত্তরে জামায়াতের পক্ষ থেকে মুহাম্মদ সেলিমউদ্দিন এবং দক্ষিণে ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েমকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে বাছাই করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী নভেম্বর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় নির্বাচন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে ঢাকা দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন নিয়ে এখনো তফসিল ঘোষণা হয়নি। ফলে ভোটের সময় যত ঘনিয়ে আসবে, প্রার্থী ও সম্ভাব্য জোটের সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত