জামায়াত জনগণের স্বার্থের আন্দোলনে নেই: রিজভী

সহযাত্রী নিউজ ডেস্কঃ
| ফটো কার্ড
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামীর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেই। তাঁর দাবি, জনগণের সঙ্গে প্রতারণার কারণে দলটি দীর্ঘদিনেও মানুষের চূড়ান্ত আস্থা অর্জন করতে পারেনি।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

দেশের বিভিন্ন স্থানে বাস ও ট্রেনে আগুন এবং ককটেল বিস্ফোরণের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, মধ্যবাড্ডা, উত্তরা, মিরপুর ও কাফরুলে বাসে আগুন, ট্রেনে অগ্নিসংযোগ এবং হাইকোর্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্পর্ক রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে যারা কর্মসূচি পালন করছেন, তাদের এসব সহিংস ঘটনার বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ কর্মসূচি দেওয়ার আহ্বান জানান বিএনপির এই নেতা।

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি জামায়াতের প্রতি দ্রব্যমূল্য, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কর্মসূচির পাশাপাশি পরিকল্পিত সহিংসতার বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল আয়োজনের আহ্বান জানান।

জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের পরও সরকারকে ডিজেল বিক্রিতে লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে দাবি করেন রিজভী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার সময় এক লিটার ডিজেল কিনতে সরকারের প্রায় ২০৫ টাকা ব্যয় হয়েছে। অথচ দেশে দীর্ঘ সময় ডিজেল ১১৫ টাকা লিটার দরে বিক্রি করা হয়েছে। এতে প্রতি লিটারে প্রায় ৯০ টাকা লোকসান হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সম্প্রতি ডিজেলের দাম ২০ টাকা বাড়ানো হলেও লোকসান পুরোপুরি কাটেনি বলে দাবি করে রিজভী বলেন, বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রিতে সরকারের প্রায় ৭০ টাকা লোকসান রয়েছে।

আন্তর্জাতিক দামের তুলনা তুলে ধরে তিনি বলেন, নেপালে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম প্রায় ১৬১ টাকা, মিয়ানমারে ১৬৪ টাকা, শ্রীলঙ্কায় ১৭৯ টাকা ৪২ পয়সা এবং ফিলিপাইনে ১৮৮ টাকা ৫০ পয়সা। ভারতেও প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৩৪ টাকার বেশি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়কারী ব্যারিস্টার নাসিম খান এবং মুখপাত্র এস এম শাহাদাতসহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত