এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা নাগরিকদের সমতা ও বৈষম্যহীনতার সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে জামায়াতের ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রায় দেড় ঘণ্টা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে। এ সময় স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণের সুযোগসহ মোট নয় দফা দাবি ইসির কাছে লিখিতভাবে তুলে দেওয়া হয়।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকের সংখ্যা ৩০ হাজারের বেশি। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা বিভিন্ন নির্বাচনে ভোট দেওয়া, রাজনীতি করা এবং নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পেয়ে আসছেন।
তিনি বলেন, সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও অনেক এমপিওভুক্ত শিক্ষক প্রার্থী হয়েছেন। অথচ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তাঁদের অযোগ্য করার সুপারিশ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।
মিয়া গোলাম পরওয়ারের দাবি, একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষক যদি সংসদ সদস্য পদে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন, তাহলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁকে বাধা দেওয়ার যুক্তি থাকতে পারে না।
জামায়াতের আরও যেসব দাবি
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো দলের পদধারী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার দাবিও জানিয়েছে জামায়াত। দলটির মতে, এ ধরনের ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে।
এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনে সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া অতিরিক্ত সচিব শামসুল আলমের নিয়োগ বাতিলের দাবিও জানিয়েছে দলটি। জামায়াতের অভিযোগ, তিনি বিএনপির নির্বাচনবিষয়ক একটি উপকমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে কমিশন জানিয়েছে, এ বিষয়ে সরকারের কাছে তাদের মতামত জানানো হবে।
স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করা প্রশাসকদের আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বন্ধ রাখার দাবিও জানানো হয়েছে। জামায়াতের আশঙ্কা, প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনরত ব্যক্তিরা সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহারের সুযোগ পেতে পারেন।
দলটি আরও দাবি করেছে, তফসিল ঘোষণার পর প্রশাসক পদ থেকে পদত্যাগ করলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওই নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।
এ ছাড়া মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রচারে অংশগ্রহণ বন্ধে আচরণবিধিতে স্পষ্ট বিধান রাখার দাবি জানানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশন বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে গোলাম পরওয়ার জানান।
নির্বাচন বর্জন নিয়ে যা বললেন
জামায়াতের দাবি পূরণ না হলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন বর্জন করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এখনো সে ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তাঁরা নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থাশীল বলেও জানান।
তবে তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন দলীয় সরকারের চাপের কারণে নির্বাচন কমিশনের মধ্যে এক ধরনের অসহায়ত্ব রয়েছে। তাঁর মতে, কমিশন সব বিষয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না।
তারপরও জামায়াত হতাশ নয় জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, তাঁরা আশা করছেন তাঁদের দাবিগুলো গ্রহণ করা হবে। এসব দাবি বাস্তবায়ন না হলে স্থানীয় নির্বাচন নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তফসিল ঘোষণার পর জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর প্রার্থীরা নিজ নিজ দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেবেন বলেও জানান তিনি।
বৈঠকে সিইসির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতের প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ এমপি, ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন এমপি, মোবারক হোসাইন, আব্দুর রব ও ইয়াসির আরাফাত।