ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রুশ বাহিনীতে যোগ দেওয়া ২২৭ ভারতীয়র মধ্যে ৫১ জন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৩৯ জন ইতোমধ্যে ভারতে ফিরে এসেছেন। এখনো ৩৭ জন ভারতীয় রুশ বাহিনীতে রয়েছেন।
সোমবার (৩১ আগস্ট) কিরগিজস্তানে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হয়। বৈঠকের পর গভীর রাতে এসব তথ্য জানান ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি।
রুশ বাহিনীতে ভারতীয় নাগরিকদের নিয়োগের বিষয়টি গত দুই বছর ধরে আলোচনায় রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আকর্ষণীয় বেতন ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে ভারতীয়দের রাশিয়ায় নিয়ে গিয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়েছে। পরে তাঁদের ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পাঠানো হয়।
বিষয়টি নিয়ে ভারতে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পাশাপাশি দেশটির সুপ্রিম কোর্টেও মামলা হয়। রুশ বাহিনীতে থাকা ভারতীয়দের দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন করা হয়েছিল।
সোমবার পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাব দেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি। তিনি বলেন, রুশ বাহিনীতে এখনো থাকা ভারতীয়দের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে মস্কোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছে ভারত সরকার। মস্কোয় ভারতীয় দূতাবাসও বিষয়টি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে।
মিশ্রি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা রুশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। মস্কোয় ভারতীয় দূতাবাস সারাক্ষণ এই বিষয়ের ওপর নজর রাখছে।’
এর আগে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, রুশ বাহিনীতে থাকা ৪৪ জন ভারতীয়র মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। জীবিতদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে বলেও আদালতকে জানিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার।
রুশ বাহিনীতে ভারতীয়দের যোগ দেওয়ার কারণ হিসেবে আকর্ষণীয় আর্থিক সুবিধার বিষয়টিও আদালতে তুলে ধরা হয়েছিল। সরকারের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্য ভাট্টি জানিয়েছিলেন, অনেককে উচ্চ বেতন, সামাজিক নিরাপত্তা, আকর্ষণীয় ক্ষতিপূরণ এবং রুশ নাগরিকত্বের মতো সুবিধার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এসব প্রস্তাবে আকৃষ্ট হয়ে অনেকে রুশ বাহিনীতে যোগ দেওয়ার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
রুশ বাহিনীতে থাকা ভারতীয়দের সবাই যে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিচ্ছেন, এমন নয়। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, তাঁদের কেউ রান্নাবান্নার কাজে এবং কেউ সহায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রুশ বাহিনীতে ভারতীয়দের নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চললেও এবারই প্রথম এত বিস্তারিত সংখ্যা প্রকাশ্যে এলো। পুতিন-মোদির সাম্প্রতিক বৈঠকের পর বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।