চট্টগ্রামে টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিতে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
শনিবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের জরুরি অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন ও ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সদস্যরা বন্যাকবলিত বিভিন্ন উপজেলায় অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় চার লাখ মানুষ পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১০ পদাতিক ডিভিশনের উদ্ধারকারী দল প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ দুর্গত এলাকায় কাজ করছে।
অন্যদিকে, ভারী বৃষ্টিতে বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলাতেও বন্যা দেখা দেওয়ায় সেখানে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সেনাসদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
আইএসপিআর জানায়, দুর্গত এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার এবং ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম আরও দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য ২৪ পদাতিক ডিভিশন ইতোমধ্যে তিনটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করেছে।
এদিকে শনিবার গুইমারা রিজিয়নের লক্ষ্মীছড়ি জোনের উদ্যোগে ফটিকছড়ি উপজেলার সুন্দরপুর, হারুয়ালছড়ি ও আশপাশের বন্যাকবলিত এলাকায় জরুরি ত্রাণ বিতরণ করা হয়। সেনাসদস্যরা নৌযানসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দুর্গম এলাকায় পৌঁছে ১০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন।
সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্গম এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। পানিবন্দি মানুষের খাদ্যসংকট ও দুর্ভোগ কমাতে সেনাসদস্যরা মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষণিক কাজ করছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে।
আইএসপিআর জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে সেনাবাহিনীর উদ্ধার, ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।