জুলাই সনদ ও পূর্ণাঙ্গ সংস্কার প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে আংশিক সংস্কারের অভিযোগ তুলে জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল। বৃহস্পতিবার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল উত্থাপনের ঠিক আগে তারা সংসদ থেকে বেরিয়ে যায়।
সংসদে বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর আইন প্রণয়নের কার্যক্রম শুরুর আগে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় তিনি জুলাই সনদ, সংবিধান সংস্কার পরিষদ এবং সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটির বিষয়ে কথা বলেন।
বিরোধীদলীয় নেতা সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না হওয়ায় সরকারের সমালোচনা করেন। পাশাপাশি ওই দিনের কার্যসূচিতে থাকা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলের বিষয়ে আপত্তি তুলে ধরেন। এসব বিল উত্থাপনের সময় বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদে থাকবেন না বলেও জানান তিনি।
এরপর রাত ৮টা ৬ মিনিটের দিকে বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদ থেকে বেরিয়ে যান। পরে তারা গণমাধ্যমের সামনে ওয়াকআউটের কারণ তুলে ধরেন।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে গত ১২ মার্চ এসব অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১৬টি অধ্যাদেশ বিল আকারে উত্থাপন করা হয়নি। ফলে সেগুলো কার্যকারিতা হারায়। আরও সাতটি অধ্যাদেশ রহিতকরণ বিলের মাধ্যমে বাতিল করা হয়।
গুম প্রতিরোধ, পুলিশ কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশসহ যেসব অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময়ে বিল আকারে আনা হয়নি, সেগুলো আরও যাচাই-বাছাই করে নতুন আইন করার উদ্যোগ নেয় সরকার। এর মধ্যে ছিল গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ।
অন্যদিকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত তিনটি অধ্যাদেশ বাতিল করে ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন পুনঃপ্রচলনের জন্য প্রথম অধিবেশনেই একটি বিল পাস করা হয়। তখন আইনটি আরও যাচাই-বাছাই করে শক্তিশালী করার কথা জানিয়েছিল সরকার।
পরে গত ৩ আগস্ট গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের খসড়া এবং ১০ আগস্ট জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনের খসড়া অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা। খসড়া দুটি অনুমোদনের পর থেকেই মানবাধিকারকর্মী, রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ ও সমালোচনা দেখা দেয়। বিশেষ করে প্রস্তাবিত আইনের কয়েকটি বিষয় নিয়ে আপত্তি উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে পূর্ণাঙ্গ সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করে সংশ্লিষ্ট আইনগুলো সংসদে তোলার প্রতিবাদেই বিরোধী দলের এই ওয়াকআউট বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা।