জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে দর্শনার্থীদের ঢল, দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক
| ফটো কার্ড
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর জুলাই ৩৬ গণ–অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই জাদুঘরের মূল ফটকে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে টিকিট সংগ্রহে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়েছে দর্শনার্থীদের, আর এতে সৃষ্টি হয় সাময়িক বিশৃঙ্খলা ও ভোগান্তি।

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের স্মৃতি, শহীদদের ব্যবহৃত সামগ্রী, বিভিন্ন আলোকচিত্র, নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট ঐতিহাসিক নিদর্শন দেখতে রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেও অসংখ্য মানুষ জাদুঘরে আসেন। তবে দর্শনার্থীর চাপ সামাল দিতে গিয়ে কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হয়।

জাদুঘরের প্রবেশপথে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে নারী, শিশু ও বয়স্ক দর্শনার্থীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন। কয়েকজন দর্শনার্থী অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও টিকিট সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে কিছু দর্শনার্থী কাউন্টারের দিকে এগিয়ে গেলে নিরাপত্তাকর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

বেলা তিনটার পর টিকিট বিতরণ শুরু হলে ধীরে ধীরে দর্শনার্থীরা জাদুঘরে প্রবেশ করতে থাকেন। ভেতরে বিভিন্ন গ্যালারিতে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, নথিপত্র এবং শহীদদের ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী প্রদর্শন করা হয়।

তবে তথ্যসেবা নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। দর্শনার্থীদের কয়েকজন জানান, দায়িত্বে থাকা স্টোরিটেলারদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যায়নি। জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অতিরিক্ত ভিড় সামাল দিতে সম্প্রতি নতুন স্টোরিটেলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা এখনো পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ না পাওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য উপস্থাপনের কার্যক্রম শুরু হয়নি।

এ বিষয়ে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানায়, কয়েক দিনের মধ্যেই প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে স্টোরিটেলারদের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের জন্য নিয়মিত তথ্যসেবা চালু করা হবে। বর্তমানে তারা মূলত ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও দর্শনার্থী ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছেন।

এদিকে, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া আবদুর রহমান জিসানের বাবা বাবুল সরকার অভিযোগ করেছেন, তাঁর ছেলের ব্যবহৃত কিছু স্মারক জাদুঘর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হলেও সেগুলো প্রদর্শনীতে রাখা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত