মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সংকটের মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করতে একটি ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। শুক্রবার সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় তিন দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই হয়।
চুক্তি-পরবর্তী যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সদস্য দেশগুলোর যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সম্মিলিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
তবে চুক্তির আওতায় প্রতিটি দেশের নির্দিষ্ট দায়িত্ব বা সামরিক প্রতিশ্রুতির বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। যৌথ বিবৃতিতে শুধু জানানো হয়েছে, নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় অবদান রাখাই এর উদ্দেশ্য।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তুরস্কের এক কর্মকর্তা জানান, চুক্তিটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক। এতে আত্মরক্ষার প্রয়োজনে পারস্পরিক সহযোগিতার অঙ্গীকার করা হয়েছে এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আঞ্চলিক অন্যান্য দেশ চাইলে এই উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার সুযোগও থাকবে।
তিনি আরও বলেন, নতুন এই চুক্তি বিদ্যমান কোনো দ্বিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় নিরাপত্তা চুক্তির বিকল্প নয়; বরং বিদ্যমান সহযোগিতার পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের পর মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠার প্রেক্ষাপটে এই প্রতিরক্ষা চুক্তি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান—তিন দেশই আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং কৌশলগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সমন্বিত অবস্থান নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।