জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দিতে প্রস্তুত রূপপুর, যুক্ত হচ্ছে এনএলডিসির সঙ্গে

সহযাত্রী নিউজ ডেস্কঃ
| ফটো কার্ড
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতিতে আরও এক ধাপ এগিয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। কেন্দ্রটির উৎপাদন ও সঞ্চালনসংক্রান্ত তথ্য জাতীয় লোড পরিচালনা কেন্দ্রের (এনএলডিসি) কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় যুক্ত করতে একটি চুক্তি হয়েছে।

বুধবার ঢাকায় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের কার্যালয়ে কমিশন ও বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান জিই ভার্নোভার মধ্যে এ চুক্তি সই হয়। রূপপুর প্রকল্পের পক্ষে প্রকল্প পরিচালক ড. কবির হোসেন এবং জিই ভার্নোভার পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি দেবেশ ঝা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

দেশের বিদ্যুৎ গ্রিডের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে এনএলডিসি। কোথায় কত বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে, কোন পথে কত বিদ্যুৎ সঞ্চালিত হচ্ছে এবং বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা কত—এসব তথ্য এখান থেকে পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

রূপপুরকে এনএলডিসির কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হলে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালনসংক্রান্ত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় গ্রিডের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় পাওয়া যাবে।

চুক্তি অনুযায়ী, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের তথ্য এনএলডিসির কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় সংযুক্ত করা হবে। দুই ইউনিটের মোট আটটি সঞ্চালন লাইনের তথ্য এই ব্যবস্থার আওতায় আসবে। পাশাপাশি কেন্দ্রটির দুটি উপকেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও এনএলডিসিতে পাওয়া যাবে।

প্রকল্প পরিচালক ড. কবির হোসেন বলেন, রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে নির্ভরযোগ্যভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের তথ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে এই চুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি মাইলফলক। কেন্দ্রটির কমিশনিং প্রক্রিয়া এবং পরবর্তী সময়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনায়ও এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রূপপুরের উপ-প্রকল্প পরিচালক ড. মো. খালেকউজ্জামান বলেন, এনএলডিসির স্কাডা ব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ফলে রূপপুর ও জাতীয় গ্রিডের মধ্যে তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদান করা সম্ভব হবে। এতে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং জাতীয় গ্রিডের চাহিদার মধ্যে সমন্বয় করে সরবরাহ ব্যবস্থাপনা করা সহজ হবে।

এদিকে রূপপুরের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে। গত ২৮ এপ্রিল ইউনিটটিতে জ্বালানি লোডিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে সেখানে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এসব ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাওয়ার কথা রয়েছে।

নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। পরে ধাপে ধাপে উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানো হবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। উভয় ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে জাতীয় গ্রিডে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে।

দেশে গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহে যখন চাপ রয়েছে, তখন রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিষয়:

রূপপুর
এলাকার খবর

সম্পর্কিত