কওমি মাদরাসার উন্নয়নে ৬ শিক্ষা বোর্ড, চাকরিতেও বাড়ছে সুযোগ

সহযাত্রী নিউজ ডেস্কঃ
| ফটো কার্ড
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দেশের কওমি মাদরাসাগুলোর মধ্যে সমন্বয়, শিক্ষা কার্যক্রমের উন্নয়ন এবং পাবলিক পরীক্ষা পরিচালনার জন্য ছয়টি কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে এসব বোর্ডের সনদকে সরকারি ও বেসরকারি মাদরাসার নির্দিষ্ট দুটি পদে নিয়োগের যোগ্যতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের তৃতীয় দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের কওমি মাদরাসাগুলোর সমন্বয়, উন্নয়ন ও পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণের উদ্দেশ্যে ২০০৬ সালে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে ‘কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বাংলাদেশ’ নামে একটি স্থায়ী প্রতিষ্ঠান গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

পরবর্তী সময়ে কওমি মাদরাসার উচ্চশিক্ষার সনদের স্বীকৃতির বিষয়েও আইন করা হয়। ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’-এর অধীন কওমি মাদরাসাগুলোর দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি)-এর সমমান দেওয়ার জন্য ২০১৮ সালে আইন প্রণয়ন করা হয়।

ওই আইনের আওতায় দেশের ছয়টি কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। বোর্ডগুলো হলো—বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ, বেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া গওহরডাঙ্গা বাংলাদেশ, আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ, আজাদ দ্বীনি এদারায়ে তালীম বাংলাদেশ, তানযীমুল মাদারিসিদ দ্বীনিয়া বাংলাদেশ এবং জাতীয় দ্বীনি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বাংলাদেশ।

কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের চাকরির সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও সরকারের পদক্ষেপের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গত ২৩ জুন ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদরাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা, ২০২৬’ সংশোধন করা হয়েছে।

সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী, সহকারী মৌলভী (ক্বারী) ও ইবতেদায়ি ক্বারী পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ওই ছয়টি কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের সনদকে প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

এর ফলে এসব পদে চাকরির আবেদনের ক্ষেত্রে কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) সনদের পাশাপাশি ইলমে কিরাআত অথবা হিফজুল কোরআন সনদধারীদের জন্যও সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সরকারের এ উদ্যোগের মাধ্যমে কওমি মাদরাসার শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু সরকারি ও বেসরকারি চাকরির সুযোগ সম্প্রসারিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত