যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে নিয়োগ ও বদলিতে অনিয়ম এবং সরকারি কেনাকাটাকে ঘিরে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগ।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুদকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযোগগুলো অনুসন্ধানের জন্য ইতোমধ্যে চার সদস্যের একটি টিম গঠন করা হয়েছে। দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে বিশেষ এই টিমকে অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির একটি অভিযোগ কমিশনে জমা পড়ে। পরে অভিযোগটি যাচাই-বাছাই করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই অনুসন্ধানের আওতায় আরও তিনজন রয়েছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের একজন হিসেবে আসিফ মাহমুদ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পান।
প্রথম দিকে তিনি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। পরে ২০২৪ সালের নভেম্বরে তাঁকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করেন তিনি।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন আসিফ মাহমুদ। একই মাসের শেষ দিকে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি দলটির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
দুদকের অনুসন্ধানের মাধ্যমে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করা অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়গুলো যাচাই করা হবে। তবে অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।